বাজারে ঢুকল সাতক্ষীরার আম, ২২৫ কোটি টাকা বিক্রির সম্ভাবনা

আপডেট : ০৫ মে ২০২৩, ০৩:৩৯ পিএম

আম পাড়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের বিখ্যাত গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ. বোম্বাই, গোলাপখাস, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের সাতক্ষীরার আম বাজারে ঢুকল।

সাতক্ষীরার আমের চাহিদা শুধু দেশে নয়, এর কদর বিদেশেও রয়েছে। প্রত্যেক বছর কয়েক মেট্রিক টন সুস্বাদু আম ইউরোপের বাজারে বাজারজাত করেন ব্যাবসায়ীরা। আশানুরূপ ফলন হওয়ায় ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রির আশার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তারের সাতক্ষীরা জেলার উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলার চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। এতে আয় হবে ২২৫ কোটি টাকার বেশি।

সাইফুল ইসলাম আরও জানান, মাটি, বাতাস ও আবহাওয়া ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোপালখাসসহ অন্যান্য জাতের প্রচুর আম উৎপাদন হয়। চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। এ বছর নবমবারের মতো ইংল্যান্ড ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবে এই জেলার আম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সদর উপজেলায় এক হাজার ২৩৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৫ হেক্টর, তালায় ৭১৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৭০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৮৩৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৪৫ হেক্টর ও শ্যামনগরের ১৬০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। সবমিলে চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত পাঁচ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার ১০০ চাষি রয়েছেন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। যে ফলন হয়েছে, তাতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

উপজেলা কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, আবহাওয়া এবং পরিবেশগত কারণে অন্য জেলার চেয়ে সাতক্ষীরায় আম আগে পাকে। এ জন্য দেশের বাজারে সবার আগে এখানকার আম বিক্রি শুরু হয়। গত কয়েক বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগস্ত হয়েছেন চাষিরা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে কিছু গুটি ঝরে পড়ছে।

আমচাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'এখানের আম অতুলনীয়। হিমসাগর বিখ্যাত। ল্যাংড়া ও আম্রপালির চাহিদা বেশি। গত বছর ১৫টি বাগান কিনেছিলাম। এ বছর ২০টি লিজ নিয়েছি। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।'

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদনে রেকর্ডের আশা করছি। গড়ে ৫০ টাকা কেজি ধরলে ২২৫ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে।' এবার বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই কৃষিবিদ বলেন, 'সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের শপগুলোতে যাবে সাতক্ষীরার আম।'

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, 'সাতক্ষীরার আম দেশের বাজার পেরিয়ে বিদেশের বাজার দখল করেছে। সাতক্ষীরার আম নিরাপদ ও সুস্বাদু হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। এই সুখ্যাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।'

শুক্রবার সকালে কুখরালীতে মোকছেদ আলীর আমের বাগানে আম পাড়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত আমপাড়া আয়োজনে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মইনুল ইসলাম বলেন, 'সাতক্ষীরার কোনো অপরিপক্ক আম দেশের বাজারে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভোক্তা ঠকতে পারে এমন যেকোনো কাজ ঠেকানো হয়েছে কঠোরভাবে। তাতে হয়তো দুষ্টু কিছু আম ব্যবসায়ী কষ্ট পেয়েছে, কিন্তু লাভবান হয়েছে সৎ আমচাষি ও সাধারণ ভোক্তারা।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত