বগুড়ার ধুনটে স্কুলপড়ুয়া আল মায়দা আকতার রজনী (৮) বৃহস্পতিবার বিকেলে আম কুড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হয়। এ সময় তাকে ধর্ষণের পর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত ও গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী স্কুলের দেয়ালের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের মধ্যে থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একই এলাকার এক কিশোরকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আকতার। এ সময় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম, শেরপুর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরিন উপস্থিত ছিলেন।
নিহত রজনী জেলার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী পশ্চিমপাড়া গ্রামের গাজীউর রহমান তালুকদারের কন্যা। সে এলাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় শিশু রজনীর বাবা বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা করেছেন।
জেলা পুলিশ অফিসের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আকতার আরও জানান, শিশু রজনীর লাশ উদ্ধারের পর থেকে জেলা পুলিশের অভিযান শুরু হয়। অভিযানে জড়িত কিশোরকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ১০ দিন আগে সে এবং তার দুই সহযোগী শিশু রজনীকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাঙ্গী স্কুলের পাশে শহীদ মিনার এলাকায় আম কুড়াতে গেলে তাকে গ্রেপ্তারকৃত ওই কিশোর ও তার এক সহযোগী মিলে স্কুলের পাশের গলিতে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় তাদের আরেক সহযোগীকে ডেকে আনে এবং তারা পালাক্রমে শিশু রজনীকে ধর্ষণ করে। যেহেতু গ্রেপ্তারকৃত শিশু রজনীর প্রতিবেশী হওয়ায় তাকে চিনতে পারে। এ সময় শিশুটির মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে এবং গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর শিশু রজনীর লাশ পাশের পরিত্যক্ত ঝোপের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ওই কিশোরকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
