বাগেরহাটের চিতলমারীতে চাচাতো বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক দল যুবক। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোড়া নালুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল জব্বার শেখ (৩০) উপজেলার বড়বাগ গ্রামের আবদুল হক শেখের ছেলে। দুবাই প্রবাসী জব্বার তিন মাস আগে ছুটিতে বাড়ি আসেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন হামলার সময় জব্বারের সঙ্গে থাকা তার বেয়াই রাজীব শেখ (২৮)।
নিহতের চাচাতো ভাই দ্বীন ইসলাম শেখ অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বোন আসমা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ২৫ এপ্রিল বোরকা আনতে দরজির দোকানে গেলে আসমার পথরোধ করে পাবর্তি গোড়া নালুয়া গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার মুন্সি ওরফে আকাশ নামে এক যুবক। ওইদিন দেলোয়ার প্রেমের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে আসমা। তখন দেলোয়ার আসমাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে চলে যায়। আসমা বাড়ি ফিরে এ ঘটনা জানালে চাচাতো ভাই জব্বার শেখ দেলোয়ার মুন্সির বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে নালিশ করেন। এরপর থেকে জব্বারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল দেলোয়ার।
যার জেরে জব্বারের ওপর হামলা করা হয়েছে দাবি করে দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার ভাই জব্বার বেয়াই রাজীবকে সঙ্গে নিয়ে ওদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেলোয়ারসহ পাঁচ-ছয়জন যুবক তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন। আর রাজীবকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।’
খবর পেয়ে নিহত জব্বারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় জানিয়ে চিতলমারী থানার ওসি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত আবদুল জব্বারের বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। অপর আহত রাজীবের শরীরেরও বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন।’
ওসি আরও বলেন, ‘এক মাদ্রাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠা দেলোয়ার মুন্সির মা পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’
