ঢাকার সাভারে দাবি করা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলেসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম দেওয়ান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লায় একই চত্বরে অবস্থিত আনন্দপুর টিম্বার অ্যান্ড স’মিল, নিউ আনন্দপুর টিম্বার অ্যান্ড স’মিল, আনন্দপুর ফল মার্কেট ও বিসমিল্লাহ ওয়াশ কারখানায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় হামলার শিকার ব্যবসায়ী ইউনুস আলী চুন্নু বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে পৌর ছাত্রলীগ নেতা মাসুম দেওয়ান ওরফে মুরগি মাসুমকে এক নম্বর আসামি করে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সোহেল রানাসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলা ও মারধরে আহতরা হলেন বিসমিল্লাহ ওয়াশ কারখানার স্বত্বাধিকারী আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী চুন্নু (৪৫), তার ছেলে আবির হোসেন (২১), ছোট ভাই মো. নান্নু (৪০), স্ত্রী রত্না ও ভাতিজা বাহাদুর (২৭)।
হামলার শিকার ইউসুফ আলী চুন্নু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম দেওয়ান গত এক মাস ধরে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেওয়ায় সন্ধ্যায় ২০-২৫ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে আমার কারখানায় হামলা চালায়। মাসুম আমার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবাক্স এবং আমার সঙ্গে থাকা ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় আমার ছেলে, স্ত্রী, ভাতিজা ও ছোটভাইসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করে।’
ছাত্রলীগ নেতা মাসুম দেওয়ান পিস্তল দিয়ে তার ছেলের মাথায় আঘাত করে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘মাসুম দেওয়ান এ সময় বলে, ভাইয়ের নির্দেশ এখানে ব্যবসা করলে চাঁদা দিতে হবে। একপর্যায়ে দাবি করা চাঁদার বাকি টাকা দ্রুত পৌঁছে দিতে বলে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দলবল নিয়ে চলে যায়।’
আহত ব্যবসায়ী মো. নান্নু নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমিও একসময় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের পদে ছিলাম। ব্যবসায় জড়িত হওয়ার পর রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। তবে এখনো আমি আওয়ামী লীগকেই ভোট দিই। কিছু নামধারী কুলাঙ্গার ছাত্রলীগ নেতা আমার ভাই-ভাতিজাসহ আমাকে চাঁদার দাবিতে মারধর করেছে। আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গায় ব্যবসা করলেও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বাহিনী আমাদের চাঁদার জন্য বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে আমাদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম দেওয়ানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ঢাকা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘হামলার বিষয়টি জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, ‘চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় লিখিত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
