২০২২ সালে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল ইউরোপ। মহাদেশটির বেশিরভাগ দেশই দেখেছিল রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা। ২০২৩ সাল পৃথিবীর উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন জলবায়ুবিদরা।
চলতি বছর গ্রীষ্মের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে এশিয়া। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উত্তাপ বিগত কয়েক দশকের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
গত রবিবার ভিয়েতনামের গড় তাপমাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। প্রতিবেশী দেশ লাওসেও এদিন রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশ ফিলিপাইনে প্রায় প্রতিদিন তাপমাত্রার সূচক ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে থাকায় স্কুলের সময় কমাতে বাধ্য হয়েছে সরকার। ফিলিপাইনের প্রতিবেশী থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়াও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে। গত সপ্তাহে প্রতিদিনই থাইল্যান্ডের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর। থাই জলবায়ুবিদরা সরকারের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, সামনের তিন বছর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে; সরকারের উচিত আসন্ন এ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটিতে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। যদি সত্যিই এমন হয়, সে ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পামওয়েল উৎপাদনকারী এ দেশটির ভোজ্য তেলের মূল কাঁচামাল পামের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৈশ্বিক জলবায়ুবিদদের মতে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হতে যাওয়া এল নিনো আবহাওয়াগত প্যাটার্ন এ দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রাবাহের জন্য মূলত দায়ী এবং একে আরও অসহনীয় করে তুলছে মানবসৃষ্ট কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির চরম বাস্তবতা। এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। কোনো কোনো অঞ্চলে অতিবর্ষণও ঘটে থাকে। সাধারণত দুই থেকে চার বছর স্থায়ী হয় এল নিনো। তারপরই আসে ‘লা নিনা’। সে সময় এল নিনোর বিপরীত অবস্থা দেখে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী বিভিন্ন দেশ। বৈশ্বিক জলবায়ুবিদদের মতে, এল নিনোর সঙ্গে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির মানবসৃষ্ট কারণে দীর্ঘসময় তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়তে থাকবে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়াসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল।
