এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুই কানি (৮০ শতক) জমি বর্গাচাষ করেছিলেন কৃষক করম আলী (৫৫)। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল। তাই আশায় বুক বেঁধেছিলেন, এবার হয়তো বছর ভালো কাটবে। কিন্তু তার সেই আশা লোনাপানিতে শেষ হয়ে গেছে। লোনাপানিতে পুড়ে গেছে তার ক্ষেতের ধান।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী গ্রামের বাসিন্দা করম আলী। তার মতো এ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির ধান লোনাপানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কয়েকশ কৃষক ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন।
ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২১ সালে উপজেলার বরুমচড়া ভরাশঙ্খ খালের মুখে দেশের প্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এর পরপরই বাকখাইন খালের নয়ারাস্তার মাথায় স্লুইসগেট নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। যার ফলে গত দুই বছর আনোয়ারা উপজেলায় লোনাপানিমুক্ত বোরো চাষাবাদ হয়েছে।
কিন্তু গত বছর নবনির্মিত স্লুইসগেটটি দেবে পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় শিকলবাহা খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীর লবণপানি শিকলবাহার বিভিন্ন শাখা খালে ঢুকে পড়ে। ক্ষেতের সেচকাজে এসব খালের পানি ব্যবহার করায় বোরো চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে উপজেলার বরুমচড়া, বারখাইন, চাতরী, পরৈকোড়া ও আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের কয়েকশ কৃষকের জমির ধান নষ্ট হয়।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য নয়ারাস্তার মাথা খালের স্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্লুইসগেটটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য ওই স্থানে নিয়মিত জাল পেতে রাখে। ফলে প্রভাবশালীদের দাপটে সেখানে আর বাঁধ দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় কর্ণফুলীর লোনাপানি শিকলবাহা খাল হয়ে এলাকার বিভিন্ন শাখা খালে ঢুকে পড়ে। এসব খালের পানি দিয়ে ধানক্ষেতে সেচ দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব ও বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজমানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ বছর আগাম বৃষ্টি না হওয়ায় কর্ণফুলী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামেনি। এ কারণে জোয়ারে সাগরের লোনাপানি ঢুকে কর্ণফুলী নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বেড়ে গেছে। এ লবণপানি শিকলবাহা খাল হয়ে আনোয়ারা-পটিয়া-চন্দনাইশের খালসমূহে ঢুকে পড়েছে। এলএলপির (সেচ প্রকল্প) আওতাধীন জমিতে এসব খালের পানি দিয়ে ক্ষেতে সেচ দেওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে উপজেলার অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে লবণের মাত্রা এতটা বেড়ে গেছে তা আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি যখন আমাদের নজরে এসেছে তখন করার কিছু ছিল না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, নদীর লবণপানি খালের সেচ লাইনে আসায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সরেজমিন দেখে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে।
