‘প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো ঘূর্ণিঝড় সব সময় তার গতিপথের ডান দিকে আঘাত করে। গত রবিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূল পার হওয়া ভয়-জাগানিয়া ঘূর্ণিঝড় মোখাও সেই নিয়ম অনুযায়ী কক্সবাজারকে বাদীকে রেখে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ডান পাশের মিয়ানমারে আঘাত হানে। এ ছাড়া মরা কাঁঠালের মধ্যে ভাটার সময় কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে মোখা। এই দুই কারণে যতটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল তার চেয়ে অনেক কম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কক্সবাজার। অবশ্য এর উল্টোটাও হতে পারত। অর্থাৎ মোখা যদি কক্সবাজারকে ডান দিকে রেখে ভরা কাঁঠালের মধ্যে জোয়ারের সময় অতিক্রম করত তবে লন্ডভন্ড হয়ে যেত কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। আর এ থেকে রক্ষার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে। কারণ নড়বড়ে বেড়িবাঁধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রতুল আশ্রয়কেন্দ্র দিয়ে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা সম্ভব নয়।’ ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাত-পরবর্তী কক্সবাজারকে নিয়ে নিজের মতামত এভাবেই দেশ রূপান্তরের কাছে ব্যক্ত করেন পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ।
যেন তার কণ্ঠেই উঠে এসেছে কক্সবাজার উপকূলে বসবাস করা ১০ লাখ মানুষের মনে কথা। দুর্যোগকালে এসব মানুষের ভরসাস্থল মাত্র ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের অভাবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রের অধিকাংশই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া কোনো কোনো আশ্রয়কেন্দ্র দখল করে সেখানে ঘর-সংসার পেতেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রর প্রতিটিতে গড়ে ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। সে হিসেবে ৫৭৬টির ধারণক্ষমতা ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ জন। বাপার কুতুবদিয়া উপজেলার সভাপতি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার বেশিরভাই আশ্রয়কেন্দ্রই জরাজীর্ণ। মুজিবকিল্লাগুলোর নিচ থেকে বালি-মাটি সরে গিয়ে পতিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, কিন্ডারগার্টেন ভরপুর। তার ওপর আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জামের চাপ থাকে। ফলে আশ্রয়ের চেয়ে দুর্ভোগ বাড়ে মানুষের।’
মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সরওয়ার কামাল বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে সাড়ে ছয় হাজার মানুষের জন্য তিনটি সাইক্লোন শেল্টার থাকলেও মাইজপাড়া এবং ফুলজানমুরা এলাকার দুটি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি একটিতে মাত্র ১২০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় উঠলে এখানকার মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে চলে যায়।’
কক্সবাজার সদরের উত্তর গোলাতলীর বাসিন্দা সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘এখানকার আড়াই হাজার মানুষের জন্য একটি মাত্র আশ্রয়কেন্দ্র আছে। কিছুদিন আগে এলাকাবাসী দেড় লাখ টাকা খরচে সেটি সংস্কার করে। তবে এই আশ্রয়কেন্দ্রে মাত্র দুইশ মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। বাকিরা ছোটেন দেড় কিলোমিটার দূরের লোকালয়ে।’
চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের একমাত্র মগনামাপাড়ার আশ্রয়কেন্দ্রটি একেবারে জরাজীর্ণ। মানুষের ধারণক্ষমতার জন্য এটি পর্যাপ্তও নয়। সংযোগ সড়কের অবস্থাও বেহাল।’
মহেশখালীর ধলঘাপা ইউনিয়নে ২০ হাজার মানুষের জন্য ১২টি স্কুল কাম আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে সম্প্রতি ছয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। দুটির সংস্কার চলছে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশ্রয়কেন্দ্র প্রভাবশালীদের দখলে বিষয়টি দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এই দখলদার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
এভাবেই অপ্রতুল ও জরাজীর্ণ সাইক্লোন শেল্টার, অন্যদিকে উপকূলে অরক্ষিত ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নিয়েই ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলা করেছে সরকারি দপ্তরগুলো।
পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, কক্সবাজারে ৫৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৩২ কিলোমিটার অরক্ষিত। এর মধ্যে মহেশখালী ১৫ কিলোমিটার এবং কুতুবদিয়ায় ১৫ কিলোমিটার। তবে জনপ্রতিনিধিদের মতে, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, দক্ষিণ ধুরুং, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা এবং পার্শ্ববর্তী মাতারবাড়ীর পুরোটাই রয়েছে ঝুঁকিতে।
মহেশখালীর ধলঘাটার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ‘ধলঘাটার পশ্চিমে আমতলী থেকে সরাইতলার তিন কিলোমিটার, পূর্বে বটতলী ঘোনা ও বিএনপি ঘোনা সাইট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার মাটির বাঁধ ঝুঁকিতে। এ ছাড়া দক্ষিণে ভারত ঘোনায় বেজার অধিগ্রহণ করা এলাকাসহ আরও তিন কিলোমিটারে কোনো বাঁধ নেই।’
মাতারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যক্রম শুরু করলেও পশ্চিমের বাঁধ খুব নড়বড়ে। বিশেষ করে; জেলেপাড়া, ষাইটপাড়া, খন্দারবিল, রাজঘাট এ এলাকাগুলো খুবই ঝুঁকিতে।’
কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সিকদার বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্র ঠিকঠাক রাখলেও কাজিরপাড়া থেকে তাবলাচর বায়ুবিদ্যুৎ এলাকা পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নেই। একটু বাতাস বইতেই পানি পশ্চিম দিক থেকে ঢুকে পূর্বদিকে বের হবে। এখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বাস। চাষিরা ধান ঘরে তুলেছেন, কিন্তু সবজিক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড গোমাতলীতে পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করেছে। তবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে পানি বাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি।’
অন্যদিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়ার এক কিলোমিটার বাঁধও ঝুঁকিতে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’র পর যেসব বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সবগুলোই সংস্কার করা হয়েছে। এখন কোনো অংশ খোলা নেই। আমাদের বাজেট অনুযায়ী সবগুলো সংস্কার করেছি। কিছু কিছু স্থানে বাঁধ থাকলেও বাঁধের উচ্চতা কম রয়েছে। সেসব স্থানের বাঁধের উচ্চতা বাড়াতে ইতিমধ্যেই টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা থাকায় কাজ করেননি সংশ্লিষ্টরা। আশা করছি খুব দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কিছু কিছু আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ অবস্থায় বিষয়টি সত্য। তবে কুতুবদিয়ায় ১০টি, পেকুয়ায় ১০টি ও মহেশখালীতে ১০টিসহ ৭৩টি স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার সংস্কার হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি একটি সংস্থা আরও ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার করে উপযোগী করে তুলেছে। পাশাপাশি দুর্যোগ সহনশীল ১৯টি নতুন সাইক্লোন শেল্টার ও ছয়টি মুজিবকিল্লা নির্মাণাধীন রয়েছে।’
সেন্টমার্টিনে খোলা আকাশের নিচে দুই শতাধিক পরিবার : সেন্টমার্টিন জেটিঘাট দিয়ে একটু পশ্চিমে এগোলেই বাজার পাড়া। এটিই দ্বীপের একমাত্র বাজার। সেখানে দাঁড়াতেই চোখে পড়ে ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষত। উপড়ে পড়া ছাউনি, কিছু কিছু আংশিক ভাঙা দোকানকে পেছনে রেখে পশ্চিম দিকে আরেকটু এগোতেই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা মেলে ভাঙা গাছের ডালপালা, বিধ্বস্ত ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন। গতকাল সোমবার দুপুরে সেন্টমার্টিন গিয়ে এসব দৃশ্য দেখা যায়। আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে মৌসুমি চা বিক্রেতা নুরুল আলম। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে আমার বসতবাড়ি একদম বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। নিজের সক্ষমতা নেই ঘর করার। তাই বাধ্য হয়ে যত দিন কারও সহযোগিতা না পাব তত দিন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’
বাজার পাড়ার মুদির দোকানদার নাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমার মুদির দোকানের অর্ধেক অংশ ভেঙে গেছে। উড়ে গেছে টিন, যা মালামাল ছিল তাও বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, যা আছে তা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’
আরেক ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, বাজারের দেড়শোর বেশি দোকান নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) খোরশেদ আলম জানান, দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, উত্তরপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপা, মাঝেরপাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে রয়েছে।
জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ৯০ শতাংশ গাছপালা ভেঙে গেছে, প্রায় ৩০০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, আংশিক নষ্ট হয়েছে ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট এবং গুরুতর একজনসহ আহত হয়েছে ছয়জন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিমুক্ত হলেও দ্বীপ ভালো নেই। মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে শুধু সেন্টমার্টিন নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোখার আঘাতে এই দ্বীপের প্রায়ই ৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এবং ৯০ শতাংশ গাছপালা। উপজেলার সাবরাং, সদর, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউপিতেও অধিকাংশ গাছপালা ভেঙে গেছে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ ঘরবাড়ি।
গতকাল সেন্টমার্টিন পরিদর্শন করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. শাহী ইমরান বলেন, ‘আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) থেকে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
রোহিঙ্গা শিবিরের আড়াই হাজার ঝুপড়ি ক্ষতিগ্রস্ত : ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোর প্রায় আড়াই হাজার ঝুপড়ি ঘর এবং দুই শতাধিক স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ, ওয়াস রুম ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্প মাঝিরা। লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি নুরুল আমিন বলেন, ‘টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প লেদা, আলিখালী, শালবাগান, জাদিমুড়া, রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, চাকমারকুল ও উনচিপ্রাংসহ ১২ শতাধিক রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িসহ শতাধিক স্কুল-মাদ্রাসা ও মসজিদ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প মাঝি মো. সেলিম বলেন, ‘কুতুপালং, বালুখালী ও শফিউল্লাহ কাটাসহ রোহিঙ্গাদের প্রায় এক হাজারের অধিক ঘরবাড়িসহ স্কুল-মাদ্রাসা ও মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাসান বারী নুর বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের আমরা আগে থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করেছি। তবে ক্যাম্পে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।’
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে উখিয়া-টেকনাফে আড়াই হাজারের বেশি রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িসহ শতাধিক স্কুল-মাদ্রাসা ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের এবং এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের ঘর মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।’
দুদিন বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু : নারায়ণগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ দুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে। গতকাল দুপুরে কয়েকটি লঞ্চ মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে পৌঁছায়। আরেকটি ছেড়ে যায় নড়িয়ার চণ্ডীপুরের পথে। নারায়ণগঞ্জ টার্মিনালের শুল্ক প্রহরী আনিছুর রহমান জানান, এই টার্মিনালে গতকাল দুপুরে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে গত ১২ মে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
চাঁদপুর থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল শুরু : ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কেটে যাওয়ায় এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর চাঁদপুরে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য রুটের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত আসার পর চাঁদপুর ঘাটে মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি লঞ্চমালিক পক্ষকেও জানানো হয়েছে।’
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর এবং উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
