সরকারের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একার পক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, দেশে নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ পাইনি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের যে ভূমিকা এখন পর্যন্ত পেয়েছি এ ধরনের যদি একটা নিউট্রাল (নিরপেক্ষ) অবস্থানে ওনারা থাকেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নির্বাচনটা অনেক ভালোভাবে করা সম্ভব হবে।’
সাংবাদিক নীতিমালার বিধিনিষেধ নিয়ে সাংবাদিকদের পরে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়ে সিইসি বলেন, ‘এমবার্গো নিয়ে পরে চিন্তা করেন। আমি সেদিনও বলেছি, মিডিয়ার কর্মীরা যারা যাবেন তাদের বাধা দেবেন না। স্বচ্ছতার বিষয়ে তথ্য মিডিয়ার কাছ থেকেই পাব, স্পষ্ট করে এই কথাটা গাজীপুরে বলেছি।’
এর আগে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্কা আছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হচ্ছে, কিছু কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সিইসিকে জানিয়েছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের মনে শঙ্কা আছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় কি না। তবে নির্বাচনের বিকল্প নেই। সুষ্ঠু ভোটের আশা করতে তো বাধা নেই। কমিশনের প্রতি আস্থা আছে বলেই এসব বিষয় জানাতে এসেছি।’
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর হয়ে কাজ করছে এমন অভিযোগ জানিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীর সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করেছেন। আমাদের প্রার্থী বরিশাল সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার জন্য সিইসিকে চিঠি দিয়েছেন। আমাদের প্রার্থীর অভিযোগ এই রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকলে সুষ্ঠু ভোটের অন্তরায় হবে। আমরাও আমাদের প্রার্থীর সঙ্গে একমত।’
