বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মরদেহে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে কমডোর এম এম নাঈম রহমান এবং আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন একে একে শ্রদ্ধা জানায়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে এই শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। পরে তার মরদেহ নেওয়া হয় বিএফডিসিতে। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। এরপর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় কবিতা পরিষদ, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ শিল্পগোষ্ঠী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় চলচ্চিত্র শিল্পী, অভিনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিত্রনায়ক ফারুক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল ও অনড় পাথরের মতো। তিনি তার আদর্শ থেকে কখনো একচুলও ছাড় দেননি। চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার শূন্যতা অপূরণীয়।’
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নায়ক ফারুকের ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরৎ বলেন, ‘আমার বাবা চলে গেলেন। আপনারা আমার বাবার প্রতি কোনো দাবি রাখবেন না। সারা জীবন বাবা মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। মৃত্যুর পর আপনারা সেই ভালোবাসা দিয়ে যাবেন। তার আত্মার জন্য দোয়া রাখবেন।’
শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১টায় ফারুকের মরদেহ এফডিসিতে নেওয়া হলে সেখানে সহকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। পরে দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটের দিকে এফডিসিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজ জন্মস্থান কালীগঞ্জে। সেখানে দখিন সোম টিওরী জামে মসজিদে জানাজা শেষে পাঠানবাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয় নায়ক ফারুককে।
বাবার কবরের পাশে শায়িত অভিনেতা ফারুক : কিংবদন্তি অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে পঞ্চম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে দাফন করা হয়েছে। গতকাল রাত ৯টায় কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামে বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তার আগে শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখতে পৈতৃক ভিটায় ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। এ সময় বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিয়া ভাই’খ্যাত নায়ক ফারুককে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।
