বিজেপিবিরোধী ঐক্যে নতুন হাওয়া

আপডেট : ২৩ মে ২০২৩, ১০:৪৪ পিএম

ভারত জুড়ে প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ধর্মীয় রাজনীতির বলে ক্ষমতায় জাঁকিয়ে বসা বিজেপির জন্য রাজধানীর দিল্লির নিয়ন্ত্রণ হারানোটা মর্যাদার প্রশ্ন। কিন্তু বাস্তবতা হলো দিল্লির শাসনক্ষমতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির হাতে। তবে দিল্লির মসনদ ছিনিয়ে নিতে চেষ্টার কমতি রাখছে না বিজেপি। দিল্লিতে আম আদমিকে চেপে ধরতে রাজ্যপাল হিসেবে আমলা নিয়োগ দিয়েছিল বিজেপি নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় সরকার। একে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেজরিওয়ালের দল। গত ১১ মে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল দিল্লি শাসনের ভার থাকবে জনগণের নির্বাচিত সরকার অর্থাৎ আম আদমির হাতে। কিন্তু এই আদেশেও বশে আসেনি বিজেপি, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি অব দিল্লি অ্যাক্টে নতুন এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাজ্যপালের চেয়েও বড় পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে আবার ক্ষমতা খর্ব হবে দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির।

এমন পরিস্থিতিতে বিজেপিবিরোধীদের পাশে চাইছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেস নেতা রাহুলের সাজার পর দিল্লি ইস্যুতেও বিরোধী ঐক্যের পালে লেগেছে নতুন হাওয়া। অধ্যাদেশ যেন কোনোমতেই পাস না হয় সেজন্য সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে চাইছেন কেজরিওয়াল। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার কলকাতায় আসেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী, সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে দুই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়। এরপর মমতা বিজেপিবিরোধী ধারালো কণ্ঠে শান দিয়ে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি একত্র হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ব। আমাদের কিছু চাই না। একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই, যা পারেন করে নিন। রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীরা একত্র হচ্ছে। আর বিরোধীরা একত্র হলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পতন নিশ্চিত। একই সঙ্গে মমতা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, যেভাবে বিরোধীরা একত্র হচ্ছে, তাতে চমকপ্রদ কিছু হলে ২০২৪ লোকসভার আগেও পড়ে যেতে পারে কেন্দ্রের সরকার।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন বলছে, ‘কলকাতায় আসার আগেই গতকাল বার্তা দিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। জানিয়েছিলেন, দেশের রাজধানীতে “ঘুরপথে ক্ষমতা দখলের” জন্য মোদি সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় এড়িয়ে যে বিতর্কিত অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স) জারি করেছে, তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা শুরু করবেন তিনি। কেন্দ্রীয় অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য গড়ার জন্য তার সেই প্রয়াস শুরু হলো বাংলা থেকেই। আর সেখানেই পেলেন সাফল্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত