২০২৬-এর আগেই জাপানের সঙ্গে ইপিএ করার পরামর্শ

আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ১২:৪৭ এএম

২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে বিশে^ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা থেকে বাদ পড়বে বাংলাদেশ। ফলে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের আগেই জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হওয়া উচিত বলে মনে করেন জাপানের ব্যবসায়ীরা। এজন্য দ্রুত ইপিএ আলোচনা শুরু করার তাগিদও দিয়েছেন তারা।

গতকাল রবিবার জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই), জাপানিজ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা (জেসিআইএডি, শো-কো-কাই) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সহযোগিতায় সম্প্রতি ‘আওয়ার শেয়ারড এস্পিরেশনস : এক্সেলারেটিং দ্য জাপান-বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। সভায় বেসরকারি খাত ও চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র স্টেকহোল্ডার, উপদেষ্টা এবং সরকারের প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে একটি রোডম্যাপ গঠনে গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।

সভায় অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং টেকসই অর্থায়নের অগ্রগতি ও উন্নয়ন সহজতর করতে সব বোর্ড সদস্যকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আকর্ষণ করতে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

সভায় জেবিসিসিআই ও জেসিআইএডি, শো-কো-কাই সভাপতি; এবং মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ মিউং-হো লি বলেন, ‘২০২৬ সালের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের আগেই জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হওয়া উচিত, যার জন্য দ্রুতই ইপিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। শুধু বাণিজ্য নয়, উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়াতেও ইপিএ যথেষ্ট সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশে যত বেশি বিনিয়োগ করবে, স্থানীয় কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তত বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি। আর বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে করপোরেট ট্যাক্স, আয়কর, ভ্যাট ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, যা ইপিএর ফলে আমদানি শুল্ক সংগ্রহের ঘাটতি পূরণে সক্ষম হবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের অ্যাম্বাসাডর ইওয়ামা কিমিনরি বলেন, ‘দুই দেশের সরকার প্রধানরা আন্তঃসহযোগিতা বাড়ানোর জন্য তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ়সংকল্প ব্যক্ত করেছেনÑ স্থানীয় ও বৈদেশিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি; পারস্পরিক সুবিধা ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা; এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ ও জাতিগত বিনিময় ব্যবস্থা চালু করা।’

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে জাপান-বাংলাদেশের অংশীদারত্ব অনেক দূর প্রসারিত হয়েছে, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই যাত্রাকে আরও বিস্তৃত করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য তিনটি উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হলো; ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষিবাণিজ্য এবং টেকসই অর্থব্যবস্থা, যার সব কটিতে জাপান উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখতে পারে।’

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জাপানের সিইও ইউসুকে আসাই বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যকার সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করে সব বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই কৌশলগত অংশীদারত্ব বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ত্বরান্বিত করতে জাপানি কোম্পানিগুলো অবকাঠামোগত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত