নরসিংদীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আশরাফুল ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল না বলে দাবি করেছে পরিবার।
নিহত আশরাফুলের বাবা নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. নাজমুল ইসলাম দুই সন্তানের জনক। তাদের মধ্যে আশরাফুল ছোট ।
তিনি বলেন, আলরফুল শহরের ভেলানগরের অরবিট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ১ম বর্ষের ছাত্র ছিল। বড় মেয়ে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। আশরাফুলের বয়স হয়েছিল ১৬ বছর ৪ মাস। সে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত ছিল না। সে কখনো ছাত্রদলের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে যায়নি। অথচ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়েছে সে ছাত্র দল নেতা। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
গত ২৫ মে বিকেলে অরবিট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ক্লাশ শেষে বাসায় ফেরার পথে নরসিংদীর জেলখানার মোড় এলাকায় পৌঁছালে দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে আহত হয়ে পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আশরাফুল।
এ ঘটনার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শিক্ষক বাবা নাজমুল হোসেন বলেন, আমার জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে গেল ভাই। আমার আর বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। তার মা ও বোনেরও একই অবস্থা।
অরবিট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক জানান, ঘটনার দিন আড়াইটা পর্যন্ত সে কলেজে ছিল।
আশরাফুল গত ৪ মাস আগে এখানে ভর্তি হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সে ক্লাসে শতভাগ উপস্থিত থাকত না। তবে খুব মিশুক প্রকৃতির ছেলে ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্লাস শেষে সে তার সাটিরপাড়ার বাসায় চলে যায়। প্রতিবেশী রেজিয়ার ছেলে মোবারক তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। মোবারকের সঙ্গে নিজের মোটরসাইকেলে করে আশরাফুল ওই মিছিলে যায়।
আশরাফুলকে এই বয়সে কেন মোটরসাইকেল কিনে দিলেন, জানতে চাইলে তার বাবা বলেন, এসএসসি পাশ করার পর খুব বায়না ধরল মোটরসাইকেল কিনে দিতে। তাই কিনে না দিয়ে আর পারলাম না। এই মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার পর বিনা কাজেই সে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত। শেষ পর্যন্ত এ মোটরসাইকেলই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
নিহত অপরজন হলেন ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান (৩২)।
নরসিংদীতে কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে শহরের চিনিশপুরে বিএনপি কার্যালয়ের পাশে গুলিবিদ্ধ হয় তারা। প্রাথমিকভাবে আশরাফুলের বয়স ২০ বলা হলেও বাবা নাজমুল জানান তার বয়স ১৬।
গত ২৬ জানুয়ারি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে সভাপতি ও মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর থেকে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এরই জেরে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবীর খোকনের চিনিশপুরের বাসভবন তথা জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে।
