রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকার বাসা থেকে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াসিম রানার (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশের।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রানাকে অচেতন অবস্থায় স্বজনেরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসিমের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারি থানার হিজলা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত এনায়েত হোসেন মোল্লা। রাজধানীর বংশাল থানা এলাকার নিমতলি নবাব কাটরা ভবনের ৬ তলায় থাকতেন ওয়াসিম। দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ভাই ও বাবার মৃত্যুর ফলে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন।
গতকাল শনিবার সকালে তার মরদেহটি স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, ওয়াসিম কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। হাসপাতালে নিয়ে আসা লোকজনের কাছে জানা গেছে, পুরান ঢাকার শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের পেছনে নিমতলী এলাকায় তার বাসায় আত্মহত্যা করেছেন।
হাসপাতালে ওয়াসিমের বন্ধু বাবু দেশ রূপান্তরকে জানান, ইসলামের ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন ওয়াসিম। ভাগিনার সঙ্গে বংশাল নিমতলী ছাতা মসজিদ এলাকায় একটি বাসায় থাকেন। রাতের বেলায় তার সেই ভাগিনা বাসায় এসে দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকদের সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে দেখেন তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগে তার ভাই মারা গেছেন। তার কিছুদিন পরেই তার বাবা মারা যান। এ ছাড়া বেশ কয়েক দিন ধরে ওয়াসিম কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। তবে কি কারণে সে এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।
