ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সারা দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সরকার। এটি আশ্রয়ণের দ্বিতীয় প্রকল্প। উপকূলে পাকা বাড়ি বানানোর ঝুঁকি, প্রকল্পের আওতায় সমবায় ঋণের উপকারভোগীর সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬০৮ জন কমে যাওয়ায় প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা কমিয়ে ৮ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। এর আগে চারবার সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ হাজার ১৪২ কোটি টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটির পঞ্চম সংশোধনী অনুমোদনের পর এ ব্যয় কমল।
‘আশ্রয়ণ-২’ নামের প্রকল্পটি ২০১০ সালে প্রথম অনুমোদিত হয় ১ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে। তখন প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু পরপর চারবার ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। কিন্তু বিভিন্ন উপকারভোগীর সংখ্যা কমায় এবার পঞ্চম সংশোধনীতে এ প্রকল্পটির ব্যয় কমিয়ে ৮ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। সময় বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলে বিশেষ ডিজাইনের একক ঘর (সিআইশিট), পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ ডিজাইনের মাচাং ঘর এবং সমতলে জরাজীর্ণ ব্যারাকের পরিবর্তে একক ঘর নির্মাণসহ গৃহের ডিজাইন নতুন করে প্রকল্পটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপকূলীয় ও সাইক্লোন প্রবণ এলাকায় পাকা ব্যারাক নির্মাণের সংখ্যা ১ হাজার ১৭৩টি কমানো হয়েছে। মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সমবায়ের ঋণ খাতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬০৮ জন কমানো হয়েছে।
প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে আরও বলা হয়, ঘাটলা নির্মাণের সংখ্যা ১৩৭টি বেড়েছে, এ ছাড়া বিভিন্ন খাতের ব্যয় হ্রাস/বৃদ্ধি; এবং বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
মতামতে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে গৃহসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে উপকারভোগীর দারিদ্র্য বিমোচন করা এবং তাদের ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের সক্ষম করে গড়ে তোলায় এ প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রকল্পের সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। বর্ণিতাবস্থায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আওতায় বাস্তবায়নাধীন সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে ‘আশ্রয়ণ-২ (৫ম সংশোধন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি মোট ৮ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একনেক-এর সভায় সদয় বিবেচনা ও সানুগ্রহ অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।
প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে ১১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত আছে।
প্রকল্পটির মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, বন্দোবস্তকৃত ২ শতক খাস জমিতে, ক্রয়কৃত জমিতে, নিজ জমিতে, জরাজীর্ণ ব্যারাকের স্থলে সেমিপাকা, মাচাং, চরাঞ্চলে বিশেষ ডিজাইনের সিআইসিটের ৩ লাখ ৬ হাজার ১১৩টি একক ঘর নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ প্রকল্পের। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯৭৬টি পাকা ব্যারাক, চরাঞ্চলে ৩ হাজার ৭৭১টি সিআইশিটের ব্যারাক, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৩ হাজার ২২২টি সেমিপাকা ব্যারাক নির্মাণ, ১ হজার ১৫৫টি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, ২০টি টং ও ৫৮০টি বিশেষ ডিজাইনের ঘর নির্মাণ এবং ৭০২টি ঘাটলা, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বক্স কালভার্ট, পাকা ড্রেন ও সেøাপ প্রোটেকশন নির্মাণ ইত্যাদি।
