নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ুসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ আগ্রহের কথা জানান।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তাকে প্রশ্ন করা হয় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এই সাফল্যের বিষয়টি কীভাবে দেখছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজের নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, গত বছর আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছি এবং চলতি ২০২৩ সালে আমরা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও গভীর ও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই এবং এই ব্যাপারটিকে যুক্তরাষ্ট্র বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগেও এ ব্যাপারে আপনাদের কয়েকজন সহকর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ইস্যুতে আমি আলোচনা করেছি।’
ব্রিফিংয়ে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ‘জলবায়ুসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। তবে বর্তমানে আমরা নিরাপত্তা সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’
এর আগে গত সোমবারের ব্রিফিংয়ে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন ও তাদের নতুন ভিসানীতি নিয়ে কথা বলেন। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৪ মে ভিসানীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। ঘোষণায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবে বা গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করবে, তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে মার্কিন সরকার। সোমবারের ব্রিফিংয়ে বেদান্ত প্যাটেলকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আগেও বলেছি, আমরা বিশ্বের সব মানুষের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যও চাপ অব্যাহত রাখব। আমি শুধু যা বলব তা হলো, আমরা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রচারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীলসমাজ ও গণমাধ্যম সবাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছে।’
প্যাটেল বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন নীতি ঘোষণা করেছে, যার অধীনে বাংলাদেশের বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তা, সরকারপন্থি বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং বাংলাদেশে “গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণœ করার” জন্য যাদের দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা হবে এমন ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
