এ বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই রক্তক্ষরণজনিত হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ডেঙ্গুর শেষ ধাপ শক সিনড্রোমে এদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লিনিক্যালি তাদের মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করেছি। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় প্রত্যেকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আরও কারণ থাকতে পারে, যা জানার জন্য অটোপসি করা প্রয়োজন। কিন্তু তা পরিবার অনুমোদন দেবে না। আর এটা সাধারণ পরীক্ষাও না।’
মহাপরিচালক জানান, এ বছর বেশিরভাগ রোগী রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৪৭ জন রোগী (গত শুক্রবার পর্যন্ত) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।
সব হাসপাতাল প্রস্তুত : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের সব হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশোধিত গাইডলাইন প্রত্যেক হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোর চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক, ওষুধসহ সবকিছু সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রত্যেক বিভাগে ডেঙ্গু চিকিৎসায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে মশা নিধন করাটা সব থেকে জরুরি। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
পরীক্ষার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, যারা আমাদের কাছে আসছে তাদের ডায়াগনোসিস করা হচ্ছে। পরীক্ষার বিষয়ে আমরা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। গণমাধ্যমসহ সবাইকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। জ্বর হলে তারা যেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করান।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. শেইখ দাউদ আদনান জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষায় গুরুত্ব দিতে সব হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এ ক্ষেত্রে গত বছরই পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, সেটাই রাখা হয়েছে (সরকারি হাসপাতালে ১০০ টাকা ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা)। প্রত্যেক হাসপাতালে গাইডলাইন সরবরাহ করা হয়েছে। রোগীদের জন্য মশারি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু রোগীরা মশারির ভেতর থাকছে না। চিকিৎসক এলে তারা মশারির ভেতর থাকছে, বাকি সময়টা বাইরে থাকছে। রোগীদের মশারির ভেতরে রাখার বিষয়ে পুলিশিং ব্যবস্থা আমাদের নেই। এ বিষয়ে আমাদের রোগীদেরই সচেতন হতে হবে।
এবার ডেঙ্গুজ্বর থেকে সুস্থ হওয়ার পর রোগীদের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলেও জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য ও ডেঙ্গুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রোগীদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে আগত রোগীদের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ব্রিফিংয়ের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাজধানীর ৫৩টি ডেডিকেটেড হাসপাতালের সঙ্গে আরও ৩২টি হাসপাতাল মিলিয়ে ৮৫টি হাসপাতালের তথ্য তুলে ধরা হবে।
নতুন ভর্তি ১৫৬, মৃত্যু ১ : গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও ১৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় মারা গেছে একজন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত এ বছর ৩ হাজার ২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৫৪৯ জন।
মোট রোগীর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২৭৬ জন ও ঢাকার বাইরে ৭৪৫ জন। বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছে ৪৭৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৭৬ জন।
ডেঙ্গুতে যে ২২ জন মারা গেছে, তাদের ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ১০ দিনে। ভর্তি রোগীর এক-তৃতীয়াংশই ভর্তি হয়েছে এ সময়।
