খুলনা সিটি করপোরেশনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন তার ভাগ্য নির্ধারণ আজ সোমবার। এটি খুলনা সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচন। এর আগে তিনবার বিএনপি ও দুবার আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা নগরের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারই প্রথম বিএনপির কোনো প্রার্থী ছাড়া মেয়র পদে নির্বাচন হচ্ছে। এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা।
তবে সম্ভাবনা না থাকলেও মেয়র পদে হয়ে উঠতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। বড় প্রকল্পের পরও নগরীতে জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির তীব্র সংকট, ময়ূর নদের দুর্গন্ধ, উন্নয়নকাজে দীর্ঘসূত্রতায় জনদুর্ভোগসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়তে পারে খুলনা সিটি নির্বাচনে। এ ছাড়া ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে কেসিসি লাইসেন্স দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া, কেডিএ ও জেলা পরিষদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের দ্বন্দ্বের কারণেও ভোট কমতে পারে সদ্য বিদায়ী মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের। আর ভাগ্য খুলতে পারে মধু কিংবা আউয়ালের। এসব নিয়েই আলোচনা এখন খুলনা জুড়ে।
তবে শেষ মুহূর্তে নিরুত্তাপ এই নির্বাচনে উৎসবের পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা একযোগে কাজ করেছেন। ভোটারের উপস্থিতি বাড়লে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব।
ভোটার ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। বিএনপি ছাড়া মেয়র পদে অন্য দলগুলোর প্রার্থীরা ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২০ হাজার ভোটও পাননি। সেখানে তালুকদার আবদুল খালেক ৬৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মের নতুন ৪২ হাজার ৪৩৬ ভোটারের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থক অনেকটা বেশি। তবে ইসলামী আন্দোলন বিগত নির্বাচনে ১৪ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকায় অনেকেই তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ভাবলেও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের বিরোধ থাকায় তারা জামায়াতের ভোট পাবেন বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। তা ছাড়া জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় বিএনপির সাধারণ সমর্থকদের ভোট এ দুই প্রার্থীকে দেওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এসব বিশ্লেষণে বিএনপি-জামায়াতের যারা কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন তাদের ভোট একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম শফিকুল ইসলাম মুশফিক দাবি করলেও তার গ্রহণযোগ্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। এসব সমীকরণে তালুকদার আবদুল খালেক পরবর্তী মেয়র নির্বাচিত হচ্ছেনÑ এটা অনেকটা নিশ্চিত বলে তারা মনে করছেন।
নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার শেখ জিকু আলম বলেন, বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বড় ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির-জামায়াতের সম্মিলিত ভোটও আবদুল খালেককে হারাতে পারেনি। আর এবার বিএনপি-জামায়াতের কিছু ভোটার উপস্থিত হলেও অধিকাংশই ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে মনে হয় না।
মেয়র প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন
নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক নগরীর পাইওনিয়ার বালিকা বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন। আর সোনাডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুল ভোটকেন্দ্রে দেবেন লাঙল প্রতীকের শফিকুল ইসলাম মধু। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল আউয়াল বানিয়াখামার দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন। খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেবেন টেবিল-ঘড়ি প্রতীকের এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক। এ ছাড়া মতিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন গোলাপ ফুল প্রতীকের এস এম সাব্বির হোসেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, এবার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রসহ নগরীর সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি, পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি করে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া ১ হাজার ৭৩২টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, এবার ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে তারা ভোট দেবেন। এসব কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৩২টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ৩১টি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে ১৭৫ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নগরীর ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুই প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
