অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী

শুধু শেখ হাসিনার নয়, গণতন্ত্রের মুক্তি দিবস ১১ জুন

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ০২:২৮ এএম

১১ জুন শুধু শেখ হাসিনার নয়, গণতন্ত্রের মুক্তি দিবস এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রকে বন্দি করার জন্য, গণতন্ত্রের পায়ে শেকল পরানোর জন্যই বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালে ১৬ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের এই দিনে দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর তিনি মুক্তি লাভ করেছেন। সুতরাং আজকের এই দিনটি শুধু ব্যক্তি জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি দিবস নয়, গণতন্ত্রের মুক্তি দিবস।’

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রকাশিত ‘সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু : জুলিও কুরি ও এশীয় শান্তি সম্মেলন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। খবর বাসস।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমেদ, পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, সহযোগী সম্পাদক এ কে এম শামসুদ্দিন, গ্রন্থকার ও গবেষক পপি দেবী থাপা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘তখন বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন, অপরাজনীতি, তাদের নেতৃত্বে জঙ্গিদের উত্থান, দুর্নীতির সর্বগ্রাসী বিস্তার, পরপর দেশ দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। স্বাভাবিক ধারণা ছিল যে, যাদের দুঃশাসনের কারণে ক্ষমতায় এসেছিল তাদের বিরুদ্ধেই তারা ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তারা প্রথমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে, পরে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। খালেদা জিয়াকে তারা প্রথমে গ্রেপ্তার করেনি।’

তিনি বলেন, ‘সেনা সমর্থিত সেই সরকার দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে ক্ষমতা দখল করলেও নিজেরাই দুর্নীতি, অপশাসনে লিপ্ত হয়েছিল এবং তখন তাদের বিরুদ্ধে সাহস করে কেউ কথা বলেনি, জননেত্রী শেখ হাসিনাই সাহস করে কথা বলেছেন। সেই কারণে তার মুখ স্তব্ধ করার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তারা বুঝতে পেরেছিল, মুক্ত শেখ হাসিনার চেয়ে বন্দি শেখ হাসিনা কম শক্তিশালী নন, বরং অনেক ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সেই সময়কার সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে রাজপথে নেমেছিল, সোচ্চার হয়েছিল, সেই কারণেই তারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।’

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। বিএনপি আবার অগ্নিসন্ত্রাসের বার্তা দিচ্ছে। জামায়াতকে দিয়ে বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চায় বিএনপি। কারণ, বিএনপি জানে তারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না।’

বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নীলফামারী-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত