নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি ‘রেজিম চেঞ্জের’ (ক্ষমতা বদল) কৌশলের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘মার্কিনিরা সেন্টমার্টিন চায়, কোয়াডে বাংলাদেশকে চায়। বর্তমান সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে তারা সবকিছু করছে।’
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর গতকাল বুধবার সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী মেনন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই। বেশ কিছু সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাগে রাখতে স্যাংশন দিয়েছে। এখন নির্বাচন উপলক্ষ করে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এটা শুধু দুরভিসন্ধিমূলকই নয়, তাদের ‘রেজিম চেঞ্জের’ কৌশলের অংশ। তারা সেন্টমার্টিন চায়, কোয়াডে বাংলাদেশকে চায়।” ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে তারা বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। তীব্র খাদ্যসংকটের সময় বঙ্গবন্ধুর সরকারকে বিব্রত করতে মধ্যসমুদ্র থেকে গমের জাহাজ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে তাদের কালো হাত ছিল। এখন আবার বর্তমান সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে তারা সবকিছু করছে।’
সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন করে আমি বলতে চাই, বাইডেন সাহেব ট্রাম্পকে সামলান। আমাদের ঘর আমরা সামলাব। নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে রেখেই হবে। বিএনপির উচিত হবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া।’
জামায়াতকে সমাবেশ করতে অনুমতি দেওয়ার সমালোচনা করে মেনন বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম যে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আইনমন্ত্রী মাঝেমধ্যেই সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন। সেই জামায়াতকে পুলিশ বেশ সমাদর করে অন্যের সভা সরিয়ে নিতে বাধ্য করে, ১০ বছর পর প্রকাশ্য সভা করার অনুমতি দিয়েছে। এটা কীসের আলামত আমরা জানি না। এটা স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল, ঘাতক দল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে এ কথা বলেছে। এর জন্য নতুন করে আদালতের রায়ের প্রয়োজন নেই। জামায়াত কিন্তু তার অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। ওই সমাবেশ করে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছে।’
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, ‘এ বাজেটে বাংলাদেশের বর্তমান কার্যত অনুপস্থিত। বাজেটের ধারা বর্ণনায় অর্থমন্ত্রীর প্রধান বিষয় ছিল গত দেড় দশকের অতীতের অর্জন। আর ভবিষ্যৎ দশকের সুখস্বপ্নের কথা। বাজেট শুনে দেখে মনে হয়নি এটা সংকটকালের বাজেট।’
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। স্পট মার্কেটে এলএনজির মূল্য বেড়ে যাওয়া, আমদানিকৃত কয়লার মূল্য পরিশোধ করতে না পারার কারণে যথাসময়ে জ¦ালানি আনা সম্ভব হয়নি। আর এ ক্ষেত্রে এর মূলে রয়েছে ভ্রান্ত জ¦ালানি আমদানিনীতি। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন করমুক্ত সীমার নিচে আয় রয়েছে, অথচ সরকার থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন টিনধারীদের সেবা পেতে হলে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এটা নাকি তাদের জন্য গর্বের হবে। আর বড়লোকদের গর্ব খর্ব করার জন্য সম্পদ করের সীমা ৩ কোটি থেকে ৪ কোটিতে বাড়ানো হয়েছে।’
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশে ডিজিটাল আইন নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিদেশিরাও এ নিয়ে কথা বলে। আইনমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, এ আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। বিদেশিদের কথায় নয়, নিজ দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্নে এ আইন হয় পরিপূর্ণ বাতিল বা নির্দিষ্ট গণবিরোধী ধারাগুলো সংশোধন প্রয়োজন।’
ইইউর ৬ পার্লামেন্টারিয়ানের বিবৃতি হলো বিএনপির ইউরোপিয়ান শাখার বিবৃতি : কৃষিমন্ত্রী
বাংলাদেশের নির্বাচন ও বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয় পার্লামেন্টারিয়ানের বিবৃতিকে ‘বিএনপির ইউরোপিয়ান শাখার বিবৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর গতকাল জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ড. রাজ্জাক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয় পার্লামেন্টারিয়ান একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিটি পড়ে মনে হয়েছে এটি বিএনপির ইউরোপিয়ান শাখার বিবৃতি। এতে দেওয়া তথ্য ভুল, সেখানে মিথ্যাচার করা হয়েছে। এর ভাষা, বিষয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের কাছে এ ধরনের বিবৃতি আশা করেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, তারা বলেছে এখানে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ জন্মের পর থেকে উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এ আদর্শ থেকে কোনোদিন আওয়ামী লীগ বিচ্যুত হয়নি। পর্দার অন্তরাল দিয়ে লালকুঠি, নীলকুঠিতে ষড়যন্ত্র দিয়ে কোনো বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ।
