জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ¦ালানি থেকে পেতে চায় সরকার। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে।
উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সাড়ে ১০ টাকার মতো (১০ সেন্টের নিচে) হতে পারে; যা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য জ¦ালানিভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় কম।
আরপিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কেন্দ্র থেকে তুলনামূলক কম খরচে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তাই বিদেশ থেকে জ¦ালানি আমদানি নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হবে না।
আরপিসিএল সূত্র জানায়, ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি-৩) আওতায় প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থায়ন করছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। ঋণের শর্ত অনুযায়ী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হবে। সে হিসেবে ‘আমরা রাজা ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘প্রিমিয়ার সোলার পাওয়ারটেক প্রাইভেট লিমিটেড’কে (আমরা রাজা-প্রিমিয়ার সোলার জেভি) ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ১০ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে আরপিসিএল।
জানতে চাইলে আরপিসিএলের নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রটি নির্মাণে ইতিমধ্যে ৩২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ১২৫ পরিবারকে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রকল্প এলাকা হস্তান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি জুলাই থেকে মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। নির্মাণকাজ শেষে আগামী বছর এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হবে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ পরিবহনে ৪৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রায় শেষের দিকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। সূর্যের আলোর উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে এখান থেকে সর্বোচ্চ ১১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।
এক দশক আগে জেগে ওঠা চরে নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রে স্থাপিত সৌর প্যানেলের নিচের ফাঁকা জায়গায় সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ফসল উৎপাদন হবে। জমির সর্বোত্তম ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশও রক্ষা পাবে এতে।
সরকার পরিবেশ রক্ষা ও জ¦ালানির বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ১৮০ মেগাওয়াট। দেশের বিদ্যুৎসংকট নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আরপিসিএলের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং পাঁচটি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা। বর্তমানে মোট ১৭টি পবিস এবং বিআরইবি আরপিসিএলের শেয়ারহোল্ডার। প্রতিষ্ঠানটি চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩৯২ মেগাওয়াট এবং যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিপিডিবি-আরপিসিএল পাওয়ারজেন লিমিটেডের কড্ডার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিচ্ছে।
