হাঙর নদী গ্রেনেড চলচ্চিত্রটি ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন রচিত হাঙর নদী গ্রেনেড-এর কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত। এটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অবলম্বনে রচিত এই উপন্যাসটিতে ফুটে উঠেছে দেশের স্বাধীনতার জন্য এক মায়ের সর্বোচ্চ ত্যাগ। সংজ্ঞা অনুযায়ী শিশু চলচ্চিত্র না হলেও চলচ্চিত্রটি দেখলে শিশুরা সহজেই বুঝতে পারবে কত ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশটি আমরা লাভ করেছি। তাছাড়া শিশু বুড়ির দুরন্ত শৈশব ও সলিম-কলিমের শৈশব ও শিশুমনা রইসের উপস্থিতি চলচ্চিত্রটি শিশুদের মনোজগৎকে নাড়া দেবে নিঃসন্দেহে।
ছোটবেলা থেকেই মুক্তজীবনের প্রতি বুড়ির ছিল দুর্বার আগ্রহ। কিন্তু ঘটনাচক্রে সে হয় বাল্যবিবাহের শিকার। শিশু সলিম-কলিমকে মানুষ করার দায়িত্ব পড়ে তার। তাদের সঙ্গে কেটে যায় বুড়ির শৈশব। পরে তার একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিলেও সে ছিল শ্রবণপ্রতিবন্ধী ও সরল স্বভাবের। দিন যায়, দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সলিম মুক্তিযুদ্ধে যায়। কলিমের প্রাণ যায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে। দুজন মুক্তিযোদ্ধা আসে বুড়ির বাড়িতে। তাদের জীবন বাঁচাতে বুড়ি শ্রবণপ্রতিবন্ধী রইসকে পাকিস্তানি সেনাদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ধরিয়ে দেয়। পাকসেনারা রইসকে গুলি করে হত্যা করে। এক মা নিজের সন্তানকে বিসর্জন দিয়ে রক্ষা করেন দুজন মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ। এমনই হাজারো লাখো আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের কাহিনিতে দারুণভাবে ফুটে ওঠা এই সত্য ঘটনাই চলচ্চিত্রের ভাষায় উপস্থাপন করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। চলচ্চিত্রটি তোমাদের ভালো লাগবে।
