যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন চীন সফরে চোখ ছিল সারা বিশ্বের। আশা করা হচ্ছিল, তার এ সফর বিশ্বের এ দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে বরফ গলাতে সহায়তা করবে। সফরকালে এ লক্ষ্যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সফলতা আসেনি। ঘুরেফিরে আগের বিষয়গুলোই আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীন যেমন তার অনড় অবস্থানের কথা বলেছে, তেমনি ব্লিঙ্কেনও বলেছেন, তারা এক চীন নীতিতে অতীতের মতোই সমর্থন করে, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বৈঠকে দৃশ্যমান কোনো সফল না থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়নের পথ খুলেছে এর মধ্য দিয়ে।
বিবিসি বলছে, তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ চীনের প্রেসিডেন্স শি জিনপিংও। ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠকে শি বলেন, চীন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এবং দুপক্ষ (চীন ও যুক্তরাষ্ট্র) প্রেসিডেন্ট (জো) বাইডেন ও আমি বালিতে যে সাধারণ বোঝাপড়ায় পৌঁছেছিলাম তা অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, শি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতির জন্য ব্লিনকেনকে আরও কিছু করার আহ্বান জানান। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে ব্লিঙ্কেন ‘আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন’ বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের মিথস্ক্রিয়া সবসময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা ভিত্তিক হওয়া উচিত। আমি আশা করি এ সফরের মাধ্যমে, সেক্রেটারি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আপনি আরও ইতিবাচক অবদান রাখবেন। দুপক্ষ ‘অগ্রগতি ঘটিয়ে কিছু নির্দিষ্ট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে, এটা খুব ভালো’ বলেও মন্তব্য করেছেন শি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। অর্থাৎ এক চীন নীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান এখনো অটুট রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা তাইওয়ানের স্বাধীনতা সমর্থন করি না।
তবে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে তুলে ধরেছেন বলে ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শির সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের রাশিয়ার ‘আগ্রাসনমূলক যুদ্ধ’সহ বৈশ্বিক নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ব্লিঙ্কেন বলেন, চীন রাশিয়াকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেবে না। সম্প্রতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশকেও এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিশ্রুতি, একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
তবে এ বিষয়ে চীনের বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়াকে সহযোগিতা করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে অর্থনৈতিকভাবে আটকে রাখতে চায় বলে জল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি চীনের জনগণকে আশ্বস্ত করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এমনটি চায় না। ব্লিঙ্কেন বলেন, চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রকেও লাভবান করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীনের নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তির বিস্তার ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সম্পর্কে অস্থিরতা রয়েছে এবং এখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাটা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে গত রবিবার বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
