সিগন্যাল বক্স থেকে মোটর চুরির হিড়িক

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩, ১১:৫৬ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার বিভিন্ন স্টেশন থেকে রেলপথের সিগন্যাল পয়েন্ট মেশিনের বক্স থেকে মোটর চুরির হিড়িক পড়েছে। ট্রেনের এক লাইনের সঙ্গে অন্য লাইনের সংযোগ ও বিচ্ছিন্নকরণের জন্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির যে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে সেই মেশিনের মোটর একের পর এক চুরি হতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। এ ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা অংশে ঝুঁকি বেড়েছে রেলযাত্রায়।

এরই মধ্যে লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেললাইন প্রকল্পে ৫টি স্টেশনের মধ্যে থাকা ৬৭টি পয়েন্ট মেশিনের মধ্যে ২৫টি পয়েন্ট বক্স থেকে মোটর চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার আলীশহর, লালমাই, ময়নামতি, কুমিল্লা ও রাজাপুর স্টেশনে একের পর এক চুরি হয়েছে এসব মোটর। লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেললাইন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এখনো একটি মোটরও উদ্ধার করতে পারেনি রেলওয়ে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার আলীশহর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা লালমাই ও ময়নামতি, সদরের কুমিল্লা এবং বুড়িচংয়ের রাজাপুর স্টেশন এলাকা থেকে এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে ২৫টি সিগন্যাল পয়েন্টের মেশিনের মোটর। সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে লালমাই ও ময়নামতি স্টেশনে। লালমাইতে ১২টির মধ্যে আটটি এবং ময়নামতিতে ১০টির মধ্যে সবকটিই চুরি হয়ে গেছে। এতে ওই রেল স্টেশনগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে লুপ লাইনে ট্রেন চলাচল এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতগতির ট্রেন পাস।

কুমিল্লা রেলওয়েতে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত মে মাসের বিভিন্ন সময়ে দুর্বৃত্তরা সিগন্যাল পয়েন্ট মেশিনের এসব মোটর একের পর এক চুরি করে নিয়ে গেছে। লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেললাইন প্রকল্পের আওতায় এসব স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় সিগন্যালকে আধুনিকায়ন করতে প্রতিটি পয়েন্টে মেশিন বক্স কেনা হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা করে। ২৫টি পয়েন্ট মেশিনের দাম তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা অঞ্চলে রেলের সম্পদ চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে জানিয়ে রেলওয়ে কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) আহমদ আলী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইন প্রকল্পের ২৫টি পয়েন্টে চুরি হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি। এতে লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকেও লুপ লাইন ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কুমিল্লায় কর্মরত লাকসাম-আখাউড়া ডাবল রেললাইন প্রকল্পের মিড লেভেল অপারেশনস অফ সেফটি অফিসার গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চুরি হওয়া মোটর উদ্ধার করতে রেলের এরই মধ্যে লাকসাম জিআরপি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, এসব চুরির পেছনে রেলের নিরাপত্তার ঘাটতি ও অক্ষমতাকে দায়ী করেছেন কুমিল্লার সচেতন নাগরিকরা। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, আমি বলব চুরির পেছনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তারও দায় রয়েছে। কারণ দুর্গম কোনো এলাকা থেকে চুরির ঘটনা ঘটেনি; এসব মোটর চুরি হয়েছে স্টেশন থেকে। এখনই বিষয়টি নিয়ে কঠোর না হলে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি মাসুদ আলম জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মোটর চুরির ঘটনায় তাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে পুলিশ কাজ করছে। চুরি হওয়া মোটর উদ্ধার এবং চোরদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত