ভারতে পাঠ্যপুস্তকে সংস্কার নিয়ে মোটেই খুশি নয় দেশটির সচেতন মহল। সবচেয়ে বেশি বিব্রত ও বিরক্ত একসময় মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক দাঁড় করানো ভারতীয় পণ্ডিতরা। ভারতে পাঠ্যপুস্তকে হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। তাতে বলা হয়, ভারতে প্রশ্ন জাগছে পাঠ্যপুস্তকের মালিক কে? এ প্রশ্নের উত্তরে বিবিসি জানায়, এটি হলো ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি), যা ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। সরকার পরিচালিত সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের অধীনে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম পরিবর্তন এবং পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর তত্ত্বাবধান করাই হচ্ছে এ সংস্থার দায়িত্ব।
বিবিসি জানায়, পাঠ্যপুস্তক থেকে যেসব বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে চরম হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের হাতে ভারতের জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী প্রাণনাশের প্রচেষ্টার অনুচ্ছেদ এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা এবং বহুত্ববাদী ভারতের সামাজিক বৈচিত্র্যের মতো অধ্যায়। বাদ গেছে গুজরাট দাঙ্গা প্রসঙ্গ, ভারতে মুঘল শাসকদের ওপর একটি অধ্যায়। রসায়নের পিরিওডিক টেবিল বা পর্যায় সারণি এবং বিজ্ঞানের বইয়ের বিবর্তন তত্ত্বের অংশগুলোকে ওপরের ক্লাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এসব পরিবর্তন জন্ম দিয়েছে প্রবল সমালোচনার। কিন্তু এখন কিছু শিক্ষাবিদ, যারা পুরনো পাঠ্যপুস্তক পরিকল্পনা ও প্রকাশের ওপর সরকারি কমিটির অংশ ছিলেন, তারা বলছেন যে নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তারা আর যুক্ত থাকতে চান না।
গত ৮ জুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুহাস পালশিকার এবং ইউগেন্দ্র ইয়াদভ, যারা নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০০৬ সালে প্রকাশিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইগুলোর উপদেষ্টা ছিলেন, তারা এনসিইআরটিকে চিঠি লিখে জানান যে, বইগুলোর ছাপা এবং ডিজিটাল সংস্করণ থেকে তাদের নাম যেন মুছে ফেলা হয়। তারা বলছেন, পাঠ্যপুস্তকে ‘অসংখ্য অযৌক্তিক কাটছাঁট এবং বড় বড় অংশ মুছে ফেলা’ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে, কারণ এসব পরিবর্তনের পেছনে তারা ‘কোনো শিক্ষাগত যুক্তি’ দেখতে পাচ্ছেন না। এ নিয়ে এনসিইআরটি এক বিবৃতিতে বলে, এ ধরনের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার ‘প্রশ্নই ওঠে না’ কারণ সব পাঠ্যপুস্তকের কপিরাইট অধিকার এ সংস্থার।
