সাভারে প্রেস মালিক সমিতির ২০ লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ০৮:১০ পিএম

সাভার উপজেলা প্রেস মালিক সমিতির কম্পিউটার টু প্লেট (সিটিপি) প্রকল্পে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছে সমিতির ভুক্তভোগী সদস্য ও শেয়ার হোল্ডাররা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়ায় দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে দুর্নীতির বিষয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সমিতির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সাভার উপজেলা প্রেস মালিক সমিতির অধীনে ‘সাভার সিটিপি পয়েন্ট’ নামক একটি প্রকল্প প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। এটি মুদ্রণ শিল্পের আধুনিকায়নে কম্পিউটার টু প্লেট (সিটিপি) নামে নতুন সংযোজন। যা সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ২৪১ শেয়ারের মাধ্যমে শুরু করে। উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত প্রায় ৩ বছর যাবৎ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও হিসাবে গড়মিল দেখতে পেয়ে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রকল্পে হিসাবের গড়মিল তথা দুর্নীতির অভিযোগ আনেন শেয়ার হোল্ডাররা।

ইতিমধ্যে আড়াই বছর আগে ৪ লক্ষাধিক ও সম্প্রতি এক অডিটের হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা ছাড়াও অন্যান্য খাতে আরও ১০ লক্ষাধিক টাকার গরমিলের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রকল্পটির প্রধান অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ (রাফি প্রিন্টার্স), প্রকল্প সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম (সিঙ্গাইর অফসেট প্রেস), প্রকল্পের অর্থ সচিব মোস্তাফিজুর রহমান মজনু (বর্নালী প্রেস), আ: সালাম খান (মিতালী প্রেস), মোশাররফ হোসেন (আইডিয়াল প্রেস) সহ সংশ্লিষ্টরা।

যে কারণে সমিতির সাধারণ সদস্যদের কথায় কর্ণপাত না করে প্রকল্পটির দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উল্টো অভিযোগকারী শেয়ার হোল্ডারদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শেয়ার হোল্ডাররা সমিতি’র কর্মকর্তাদের
কাছে অভিযোগ দিলে সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদককে প্রধান করে একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করে।

অডিটে নেমে সেই কমিটিও হিসাবে গড়মিল খুঁজে পায়। তারপরও প্রকল্পটির অভিযুক্ত কর্মকর্তারা শেয়ার হোল্ডারদের হিসাব না বুঝিয়ে দিয়ে নানারকম টালবাহানা করায় দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। হিসাবের বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিয়টি জানিয়ে সম্প্রতি সাভার মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরিও (নং-৫৫৯, তাং৭/৬/২৩ইং) করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দুর্নীতির বিষয়ে নির্জন অফসেটের মালিক মো. সাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এ প্রকল্পে হিসাবের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও কোন হিসাব পাচ্ছি না। এখানে একটি অসাধু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ সিন্ডিকেট ভাঙতে ও আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেব।

শাহনাজ প্রিন্টিং এর মালিক সাদেকুর রহমান, নিরব প্রিন্টার্স এর মালিক মনির হোসেন ও একতা ডিজিটাল প্রিন্টিং এর মালিক মো. নূরুজ্জামানসহ প্রায় অর্ধশত ক্ষুদ্র মুদ্রণ শিল্পের মালিক দুর্নীতির ব্যাপারে সোচ্ছার হয়ে অবিলম্বে এর সমাধানও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

সাভার উপজেলা প্রেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমরা হিসাবের কিছুটা গড়ামিল পেয়েছি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিষয়টি সমাধানের কাজ করে যাচ্ছি। অচিরেই সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হিসাবের গড়মিল থাকলে খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত