বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় ট্যানারি ব্যবসায়ীরা চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি করলে বিদেশে ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করে দাম কমানোর গেম খেললে আমরা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেব। চিন্তার কারণ নেই। আমরা চাই না যে, সেটা হোক। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চলতি বছরের কোরবানির পশুর চামড়ার দাম বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
গতকালের সভায় আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত বছরের চেয়ে ৩ টাকা বাড়িয়ে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ দাম ছিল ৪৭ থেকে ৫২ টাকা। ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৪ টাকা। গত বছরের মতো এবারও ঢাকায় প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে বকরি ও খাসির চামড়ার দাম একই থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর গরুর চামড়ার দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ। খাসি ও বকরির চামড়ার দাম বাড়াতে চাই না।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী কারসাজি হলে চামড়া রপ্তানির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগেও এটি হয়েছে। ওয়েট ব্লু চামড়া আমরা রপ্তানি করি। যখনই আমরা রপ্তানির অনুমতি দিই, তখনই দেখা যায়, দামের কিছুটা উন্নতি হয়। এ বছরও আমাদের ঘোষণাটি হলো, কারসাজির মাধ্যমে দাম কম দেওয়া বা চামড়া না নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেব।
খাসির চামড়ার দাম না বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি ফিক্সড (আগের দাম) রাখার বিষয়ে আমাদের যে অভিজ্ঞতা, আমরা গত বছর ও তার আগের বছর দেখেছি, দাম একই রাখার পরও সমস্যা। সেজন্য আমরা দামটা বাড়াতে চাইনি। যদি সত্যিকার অর্থে চাহিদা থাকে, আমরা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও এর চেয়ে বেশি দামে কিনতে তো কোনো বাধা নেই। এটি নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। আমরা মিনিমাম (সর্বনিম্ন) দামটা ঠিক করে দিচ্ছি, তার চেয়ে বেশি দাম দিতে বাধা নেই।
টিপু মুনশি বলেন, দামটা আসলেই মনিটরিং করা দরকার। একটা মনিটরিং কমিটি আছে। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ কমিটি। সেই মনিটরিং টিম এটি দেখভাল করবে, যাতে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চামড়া নিয়ে রাখলে ১০ শতাংশ চামড়াও রক্ষা করা যাবে না। কারণ আমাদের তেমন কোনো সিস্টেম ডেভেলপ করেনি।
লবণের দাম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, লবণের দামটা যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, তা যৌক্তিক নয়। শিল্প মন্ত্রণালয় যেহেতু এটি নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদন কতটুকু এবং দাম কত হওয়া উচিত, সেগুলো তারা ভালো বলতে পারবে। সঠিক দামটা জানতে পারলে আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করতাম সেই দামের মধ্যে রাখার। আমরা চেষ্টা করব দাম যা আছে, কোরবানির সময় যেন তার চেয়ে বৃদ্ধি না করা হয়।
