পুলিশী হেফাজতে মারা যাওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেছেন, ‘শুধুমাত্র সরকারবিরোধী রাজনীতি করার কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে তাদের স্বজনদের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী ও গুমের শিকার নেতাদের পরিবার তাদের স্বজনদের মৃত্যুর বিচারও দাবি করেছেন।
সোমবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে ‘ভয়েস অব ভিকটিম ফ্যামিলি’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে স্বজনরা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘স্টপ কিলিং ইন পুলিশ কাস্টডি’, ‘স্টপ টর্চার ইন পুলিশ স্টেশন’, ‘উই ওয়ান্ট ইন্টারন্যাশনাল ইনকোয়ারি’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
ঢাকার লালবাগের একটি ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের ছেলে আনান হোসেন অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমার বাবাকে ধরে নিয়ে লালবাগ থানায় অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতনের কারণে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চোখ খুলতে পারতেন না।’
‘আনোয়ার হোসেন ভালো চিকিৎসা পায়নি’ অভিযোগ করে আনান বলেন, ‘বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।’
পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামানকে পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার।
তিনি বলেন, ‘সে বিএনপি করে-এটাই তার একমাত্র অপরাধ। যদি বিএনপি করা অপরাধ হয়, তাহলে দেশে কেন দুই দল? এক দল থাকাই তো দরকার।’
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সুমি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী চট্টগ্রাম ছাত্রদলের নেতা নুরুল আলমকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে রাতের বেলা সন্তানদের সামনে থেকে আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। রাতের বেলা থানা পুলিশের কাছে ছুটেছি কিন্তু সন্ধান পাইনি। পরেরদিন সকালে খবর পাই নুরুলের লাশ কর্ণফুলী নদীতে পাওয়া গেছে। সেখানে ছুটে গিয়ে দেখি নুরুলের লাশ নদীতে ভেসে রয়েছে। আমার স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় ছুটেছি কোনো বিচার পাইনি। সরকার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমরা বিচার না দেখে যেতে পারলেও সন্তানরা যেন বিচার দেখে যেতে পারে।’
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ওয়াদুদ খন্দকারকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তার ভাই জাহিদ খন্দকার। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাই একটি দোকান চালাতেন এবং বিএনপির সমর্থক ছিলেন।’
বরিশালের বাসিন্দা মো. ইউনূসের ছেলে রেজাউল করিম ছিলেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী। ইউনূস অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে। অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে সে মারা যায়। মামলা করলেও বিচার পাইনি। আমার কোল যারা খালি করেছে, আল্লাহ তাদের কোল খালি করবে। সারাবিশ্বের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার আমি চাই।’
ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমানের (বাপ্পি) বোন ঝুমুর জানান, ‘২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি পুলিশ আমার ভাইকে ধরে নির্যাতন করে। নির্যাতনে আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ তার ওপর নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, পুলিশ আমাদের পরিবারের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আমাকেও ১০দিন রিমান্ডে রাখা হয়। রাজনীতি করার অপরাধে আমার ভাইকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাজনীতি করা কি আমার ভাইয়ের দোষ ছিলো।’
