মোংলায় জমজমাট চটেরহাট পশুর হাট

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩, ০৩:০৯ পিএম

মোংলার ঐতিহ্যেবাহী চটেরহাট পশুরহাটে এবার দেশী গরুর আমদানি বেশি। হাটে ভারতের গরুর কোনো আমদানি নেই। ফলে দেশীয় ছোট-বড় গরুর দাম ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে। এতে ক্রেতারা হতাশ হলেও গো-খামারী ও চাষীদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। এবার কোরবানিতে গরু বিক্রি করে তারা গত বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

গরু ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ানসহ দেশীয় জাতের গরু দেশীয় খাবারের মাধ্যমে মোটা তাজাকরণ করেছেন তারা। শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান গরুকে খড়-কুটা, ঘাস, খইল,ভূসিসহ বিদেশীজাতের ঘাস ও খাবার খাওয়ান খামারীরা। আকারে বড় ও দেখতে সুন্দর হওয়াতে বিত্তবানদের কাছে শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান গরুর চাহিদাই বেশি। আর মধ্যবিত্তরা দেশী মাঝারি ও ছোট গরুর দিকে ঝুঁকে থাকেন।

তবে লবণাক্ত এ এলাকায় ঘাস ও খড় না থাকায় বিকল্প খাবার কিনে খাওয়াতে হচ্ছে গরুকে। খাবারের দাম বাড়ায় বাইরের খাবার খাওয়াতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারীদের। তারপরও বাজারে বাইরের গরু না আসলে তাদের বেচা-বিক্রি ভাল হবে বলে জানান তারা।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) সকালে চটেরহাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাটে গরু আমদানি বেশি। দূর- দূরান্ত থেকে খামারীরা নসিমন ও করিমনে করে হাটে গরু নিয়ে এসেছেন। হাটে ভারতের গরু-মহিষের আমদানি না থাকায় দেশি গরুর চাহিদা ও দাম বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় দেশি ছোট ও মাঝারি গরুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

গরু খামারী মো. মাসুদ, বায়জিদ ও কামারুজ্জামান জসিম জানান, এ বছর হাটে বাইরের গরু না আসায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশীয় গরুর দাম। সেজন্য হাটে দেশি ছোট গরুর চাহিদা বেশি। গরুর প্রতি মণ ৩১ থেকে ৩২ হাজার টাকা দর হিসেবে বিক্রি হচ্ছে একেকটি গরু। যা গত বছরের চেয়ে মণে ৬ থেকে ৭হাজার টাকা বেশি। দাম বেশি হওয়ায় মাঝারি সাইজের গরু কেনার প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি।

তবে এবার হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠলেও দাম চড়া হওয়াতে বেচা-কেনা কম। ক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় দাম অনেক বেশি তাই কোরবানির পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদেরকে। হাটে উঠেছে দেশি-বিদেশী জাতের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। তবে হাটে পশুর তুলনায় লোকসমাগম অনেক বেশি দেখা গেছে। বেশির ভাগ লোককেই দেখা গেছে পশু কিনতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যেতে। দাম বেশি হওয়াতে হতাশ ক্রেতারা।

এদিন গরু কিনতে আসা মাহবুবুর রহমান টুটুল, জাহাঙ্গীর, সেলিম ও বেল্লাল বলেন, গত তিনদিন হাটে ঘুরেও গরু কিনতে পারিনি। গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি। যে বাজেট করা হয়েছে তা সাধ্যের বাইরে। তারপরও গরু কিনতে হবে কিছু করার নেই।

তবে ভাল দাম না পাওয়ায় বিক্রেতারাও তাদের পশু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজ ও কাল দুইদিন কম দামে পশু কিনতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ক্রেতাদের।

এদিকে মোংলার ঐতিহ্যেবাহী চটেরহাট বাজার পশু হাটের ইজারাদার মোস্তফা ইজারাদার বলেন, হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত, জাল টাকা শনাক্ত, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের তদারকির পাশাপাশি অন্যান্য হাটের তুলনায় খাজনাও কম নেওয়া হচ্ছে। তবে বেচা-কেনা কম, দাম বেশি বলে জানান তিনি।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুউদ্দীন বলেন, পশুর হাটে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত