সেন্টমার্টিন নিয়ে কখনো আলোচনা হয়নি : যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৩, ০১:২৭ এএম

সেন্টমার্টিন দ্বীপ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কখনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।

বিফ্রিংয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে এক সাংবাদিকের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। প্রথম প্রশ্নটি ছিল সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে আসা সেন্টমার্টিন লিজ প্রসঙ্গে। কাতার ও সুইজারল্যান্ড সফর নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ কাউকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে অসুবিধা নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ২০০১ সালে ‘গ্যাস বিক্রির মুচলেকা’ দিয়েই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।

এর আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদে বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ চায় বলেই যুক্তরাষ্ট্র আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপর নানাভাবে চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে ওই সাংবাদিক এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সেন্টমার্টিন দ্বীপ দখলে নিতে চায় এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বীপটি বিক্রি করতে চায়। সে কারণে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও ১৫ বছর ধরে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ছাড়াই তিনি ক্ষমতায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটি কিনতে বা দখল করতে চায় কি না অথবা সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে কী ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে?’

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘আমি শুধু বলব, এটা সঠিক নয়। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের দখল নিয়ে আমরা কখনো কোনো আলোচনা করিনি। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দিই। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ককে জোরদার করার চেষ্টা করি।’

ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, আপনি জানেন, ছয় কংগ্রেসম্যান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠি দিয়েছেন। পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির ছয় সদস্য চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনকে। এসব চিঠিতে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী সরকার ক্ষমতাসীন আছে উল্লেখ করে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় গত রবিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কংগ্রেসম্যানদের চিঠি বাংলাদেশের প্রতি শত্রুতা। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বক্তব্য জানতে চান ওই সাংবাদিক। এর জবাবে মিলার বলেন, ‘আমি ওই চিঠি দেখিনি। এ বিষয়ে মন্তব্য করার আগে আমাকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত