সর্বশেষ পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০টি শর্ত পালন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আবেদন করার বিষয়ে সেদিন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ব্যাংকটির ঋণ বিতরণেও রাখা হয়েছে পাঁচটি শর্ত। এবার ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদনের ফরম ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাংকের আবেদনও করতে হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে। নতুন ধারার এ ব্যাংক চালু করতে আগ্রহীদের আবেদন নিতে নতুন ওয়েব পোর্টালও খোলা হয়েছে। তবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাগুজে নথি জমা দিয়ে নয়, ডিজিটাল পদ্ধতিতেই ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ডিজিটাল উপায়েই জমা দিতে হবে। আবেদন ফি হবে পাঁচ লাখ টাকা, যা অফেরতযোগ্য। আর এই ব্যাংক খুলতে ন্যূনতম মূলধন লাগবে ১২৫ কোটি টাকা।
কোনো শাখা, উপশাখা, এটিএম বুথ ছাড়াই পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর করে চলবে ‘ডিজিটাল ব্যাংক’। সশরীরে লেনদেনের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। মোবাইল আর ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করেই গ্রাহকদের সেবা দেবে ব্যাংকটি। এ ব্যাংকের পরিচালক হতে লাগবে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা।
‘ডিজিটাল ব্যাংক’র জন্য অনলাইনে আবেদন জমা দিতে গত ২১ জুন একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবেদনের জন্য ৪২ দিন উন্মুক্ত থাকবে পোর্টালটি। আগামী ১ আগস্টের মধ্যে আগ্রহীদের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি এটা নিশ্চিত। তবে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে, এ সময়ের মধ্যে যে কেউ আবেদন করতে পারবেন।
নীতিমালায় বলা হয়, ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মূলধন সংরক্ষণ চুক্তি করতে হবে। কোনো ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়লে তা উদ্যোক্তাদের জোগান দিতে হবে। ঋণখেলাপি কেউ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে পারবেন না। এমনকি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের কারও বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত কোনো মামলা আদালতে চলমান থাকলে তারাও আবেদন করার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স পাওয়ার পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি, উদ্যোক্তাদের শেয়ার ব্যাংক ব্যবসা শুরুর পাঁচ বছরের মধ্যে হস্তান্তর না করা, পরিচালকের সংখ্যা অনধিক ২০ জন, একই পরিবার থেকে চারজনের বেশি পরিচালক
থাকতে পারবে না, শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো আলাদা আলাদা এলাকায় ডিজাস্টার রিকভারি সাইট থাকতে হবে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে পারবেন না এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, ব্যাংকিং রেগুলেশন ও নির্দেশনা ইত্যাদি বিষয়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও ব্যাংকিং পেশায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
