হাইকোর্টে মামলা নিষ্পত্তি হতে পারে শিগগির

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩, ০৬:২৩ এএম

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল শনিবার। অধস্তন আদালতের রায়ে সাত জঙ্গির ফাঁসির আদেশ আসে। বিচারিক আদালতের রায়ের পর দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতে আটকে থাকা এ মামলায় হাইকোর্টে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) ও আপিলের শুনানি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। শিগগির হাইকোর্টে বিচার নিষ্পত্তি হতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মামলা পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যে। মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে একটি দ্বৈত বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এই বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় আসার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বেশ কয়েকটি কার্যদিবসে শুনানি হয়েছে। 

ইতিমধ্যে মামলার পেপারবুক (রায়সহ যাবতীয় নথি) থেকে পড়ে শোনানো শেষ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এখন শুনানি করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের যুক্তি খ-নের পর আবারও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা চূড়ান্ত শুনানি করবেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্ত সব আসামির একটি ডেথ রেফারেন্স, চারটি আপিল এবং তিনটি জেল আপিলের ওপর শুনানি হচ্ছে। গত ৩ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত চারটি তারিখে শুনানি হয়েছে।

আগামী ২৩ জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য আছে জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘দুপক্ষের শুনানি শুরু হয়েছে, আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনের পর আমরা তাদের যুক্তি খ-ন করব। আশা করি শিগগির শুনানি নিষ্পত্তি হবে এবং রায়ের জন্য তারিখ ধার্য হবে। তবে কতটি ধার্য তারিখে শুনানি শেষ হতে পারে সেটি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’ 

এ বিষয়ে কথা বলতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা করেও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে আলোচিত এ মামলাটির শুনানি চলতি মাসেই নিষ্পত্তি হতে পারে এবং আসামিদের অধস্তন আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকবে বলে গতকাল গণমাধ্যমের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত তিন আসামির (রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, মামুনুর রশিদ ও হাদিসুর রহমান) পক্ষে হাইকোর্টে শুনানিকারী আইনজীবী মো. আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুনানি শুরু করেছি। মামলাটি পরবর্তী তারিখে কার্যতালিকায় এলে আবারও শুনানি করব। আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাব।’  

২০১৬ সালের ৩০ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্তোরাঁয় নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে সশস্ত্র জঙ্গিরা। এ ছাড়া জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে দুই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। এ ছাড়া ওই সময় রেস্তোরাঁর একজন শেফ মারা যান। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল এক মামলার রায়ে অভিযুক্ত সাত জঙ্গিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের আদেশ দেয়। তারা হলেন রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, আবদুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন, শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদ, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ ও হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর। এ ছাড়া পৃথক দুটি ধারায় সাতজনকে ১০ ও ৫ বছর করে সশ্রম কারাদ- দেয় আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারিক আদালত বলে, এ ঘটনা নৃশংস ও দানবীয়। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তামিম চৌধুরীকে (জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত) চিহ্নিত করে আদালত বলে, ‘বাংলাদেশে তথাকথিত জিহাদ কায়েমের উদ্দেশ্যে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এ নারকীয় হত্যাকা- ঘটানো হয়। এ ঘটনায় বহির্বিশে্ব বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা সহানুভূতি পেতে পারে না।’ ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ দন্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট এ মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির দন্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন লাগে। এ লক্ষ্যে মামলার রায়ের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং অধস্তন আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি প্রস্তুত করা হয় যা পেপারবুক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা দন্ডপ্রাপ্তরা আপিল ও জেল আপিলের সুযোগ পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত