তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকার কর্র্তৃক গৃহীত নানা ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করেছে। এবার ঈদযাত্রাও ছিল নির্ঝঞ্ঝাট। শেষের দিকে গবাদিপশুর দামও কম ছিল। আজকে দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে মানুষের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য বেড়েছে। আর তাই গত বছরের তুলনায় বেশি কোরবানি হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজী পুকুর লেনের বাসভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এবারে পশু কোরবানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গতবারের চেয়ে এবার প্রায় এক লাখ বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এ বছর ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি পশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর ছিল ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা গত তিন দিন ধরে গলা ফাটিয়ে ফেলছেন দেশের মানুষ এবার কষ্টে আছে। দেশের মানুষ যদি কষ্টে থাকে তাহলে গতবারের চেয়ে এক লাখ বেশি গবাদি পশু কোরবানি হলো কীভাবে প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী।
একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন তারা ভিন্নমাত্রার আন্দোলন শুরু করেছেন এবং গত এক বছর ধরে তারা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। এটি উনার মুখের কথা এবং রেকর্ডেড। তার মানে হচ্ছে, আগে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এটি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন তার বক্তব্যের মাধ্যমেই।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এক বছর ধরে বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে মির্জা ফখরুল যে কথা বলেছেন সেটিও সঠিক নয়। গত কয়েক মাসের মধ্যে তারা বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, গাড়ি-ঘোড়া ভাঙচুর করেছে, ঢাকায় দোতলা বাসে আগুন দিয়েছে, চট্টগ্রামের জামালখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের ছবি ভাঙচুর করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যতই বলুক না কেন, উনারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই আছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা যে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরোধী, সেটির প্রমাণ হচ্ছে অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে যোগদানের বিরোধিতা করে তিনি সুবিধাবাদী পদক্ষেপ বলেছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ব্রিকস হচ্ছে পৃথিবীর উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা আছে এ জোটে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো পৃথিবীর উদীয়মান অর্থনীতির শক্তি। সেই শক্তিকে সবাই সমীহ করে। বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে তা নয়, বাংলাদেশ যেহেতু উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, এজন্য তারা বাংলাদেশকে ব্রিকসে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার ও সম্মানের। এটির মাধ্যমে ব্রিকসও স্বীকার করে নিয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। সেখানে যোগ দিলে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সুবিধা হবে।
আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে এবং নির্বাচন নিয়ে চীন, ভারত ও আমেরিকার সক্রিয়তা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হয় না। বিএনপি যখন সরকারে ছিল তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সরকারের অধীনেই করেছিল। এখানেই বিএনপি গুলিয়ে ফেলেছে। সরকারের যেটি দায়িত্বে থাকবে তারা শুধু নির্বাচন কমিশনকে ফ্যাসিলেট করবে। বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা যতই দাবি দিক না কেন, সংবিধানের একচুলও ব্যত্যয় হবে না। এ দাবি তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকে দিয়ে আসছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তারা একই দাবি করেছিল।
তিনি বলেন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জাপানসহ পৃথিবীর অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, ঠিক সেভাবেই আমাদের দেশে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। সেখানে যেভাবে চলতি সরকার দায়িত্ব পালন করে, ঠিক একইভাবে আমাদের দেশেও বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং তখন সরকারের শুধু রুটিন কাজ থাকে। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর-অধিদপ্তর ও সংস্থা র বদলি থেকে শুরু করে সবকিছুই নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত থাকে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি পক্ষ আছে রাত ১২টার পরে টেলিভিশনের পর্দা গরম করে। অবশ্য তাদের মধ্যে সবাই নয়, বিএনপি এবং তার মিত্ররা দেশে কোনো উন্নয়ন দেখতে পায় না। তারা দোতারাও নয়, একতারার সুরে সবসময় বলে বেড়াচ্ছে দেশের মানুষ ভালো নেই। আসলে উনারা ভালো নেই, কিন্তু দেশের মানুষ ভালো আছে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সক্রিয়তা প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, যেসব দেশ ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তারা কী করছে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়, সেটি আমাদের জিজ্ঞাসাও নয়। নির্বাচন আমাদের দেশে হবে, আমাদের ভোটাররা নির্বাচনের সময় কাকে ভোট দেবে সেটি তারাই ঠিক করবে। সুতরাং তারা কী করছে সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তাও নেই, মাথাব্যথাও নেই।
এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
