ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই চলে আসছিল সহিংসতা। শনিবার ভোটের দিনই ঝরে ১৪ প্রাণ। এ ছাড়া একে অন্যের বিরুদ্ধে অরাজকতা, ভোট লুট, ব্যালট বাক্স নষ্ট করা, বুথ দখল, বোমাবাজি, গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে তৃণমূল-বিজেপি। অথচ ভোটের আগে থেকেই সহিংসতা দেখা দেওয়ায় রাজ্যপুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাষ্ট্রের পক্ষে রাজ্য পরিস্থিতি তদারকিতে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন জানায়, গতকাল রবিবারই কলকাতা থেকে দিল্লি ছুটে যান বোস। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সহিংসতার খবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দিতে গেছেন তিনি।
রবিবার নির্বাচন কমিশন জানায়, এবার পঞ্চায়েত ভোট দেওয়ার যোগ্যতা ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ ভোটারের। ভোট পড়েছে ৮০.৭১ শতাংশ। জেলা পরিষদে ৯২৮টি আসন, ৯ হাজার ৭৩০ পঞ্চায়েত সমিতি আর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৩ হাজার ২২৯ আসনে প্রতিনিধি বেছে নিতে গত শনিবার ভোট হয় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে। রক্তের ছোপ লাগা এই ভোটে এখন পর্যন্ত বুথফেরত জরিপে এগিয়ে আছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের ভোটেও বেশিরভাগ জেলা পরিষদ আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরাই জিতবে বলে জানিয়েছে এবিপি ও সি-ভোটারের বুথফেরত জরিপ। তাদের হিসাবে মোট আসনের ৬০ শতাংশের বেশিই ঢুকবে জোড়াফুলের বাক্সে। এরপর থাকবে বিজেপি। বাম-কংগ্রেসও এবার বেশকিছু আসন পাবে।
একই চিত্র দেখা যেতে পারে পঞ্চায়েত সমিতি আর গ্রাম পঞ্চায়েতেও। শেষবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীরা ৮৫ শতাংশের বেশি আসনে জিতেছিল।
তবে নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগ তুলে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি শিবির। আনন্দবাজার জানায়, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি একটি চিঠি লিখে কমিশনকে জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার বুথে পুনর্নির্বাচন হওয়া উচিত। আপাতত শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩৬টি বুথে পুনর্নির্বাচনের তথ্য দিয়েছে কমিশন। তবে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্যে পুনর্নির্বাচন হবে সোমবারই এবং হলে তা হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়েই। মঙ্গলবার পঞ্চায়েত ভোটের গণনা।
