ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে কলেজে তালা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩, ০২:৪৪ এএম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রাবাইতারী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নিয়ে টানাটানির ঘটনায় তিন মাস ধরে বেতন-বোনাস থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এবারের পবিত্র কোরবানির ঈদ ভালোভাবে করতে পারেননি। এসবের জেরে গতকাল সোমবার সকালে বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।

এদিকে তালা দেওয়ার ঘটনায় শত শত শিক্ষার্থী ক্লাসে পাঠগ্রহণ করতে না পেরে বাড়িতে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাহফুজার রহমান এলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা মূল ভবনের তালা খুলে দেন। এরপর সভাপতি অধ্যক্ষের রুমে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হোসেন আলী ব্যাপারী অবসর গ্রহণ করলে অধ্যক্ষের পদ শূন্য হয়। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে সহকারী প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের বিধান থাকলেও গভর্নিং বডি ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক এস এম রেজাউল হক মনিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ বিষয়ে দায়িত্ববঞ্চিত সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশনাপত্র প্রেরণ করলেও রফিকুল ইসলাম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেনি কলেজ গভর্নিং বডি। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন। পরে গভর্নিং বডি কর্তৃক প্রদত্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে কুড়িগ্রাম সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন রফিকুল ইসলাম সরকার। শুনানি শেষে আদালত সহকারী অধ্যাপক এস এম রেজাউল হকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বাতিল করে সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করার জন্য কলেজ গভর্নিং বডিকে নির্দেশনা প্রদান করে। এতে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত কলেজ গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সরকারের কাছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি।

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক এস এম রেজাউল হক মনি জানান, আমি তার বিরুদ্ধে আপিল করি এবং আদালত আমাকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেন।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মাহফুজার রহমান বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হাই রকেট জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে তৎপর আছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত