গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হক নুর। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ রাশেদ খান। দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের সমর্থকদের ঘোষিত প্রথম কাউন্সিল শেষে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের পদ থেকে অপসারিত ড. রেজা কিবরিয়া সমর্থক নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় আপাতত ভাঙনের হাত থেকে বাঁচল কাউন্সিলে সভাপতি নুর সম্পাদক রাশেদ দলটি। সমঝোতা ছাড়াই নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গতকাল দুপুর ১টায় গণ অধিকার পরিষদের পুরানা পল্টনের কার্যালয়ে কাউন্সিল শুরু হয়। এতে নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন ড. রেজা কিবরিয়াপন্থি হিসেবে পরিচিত হাসান আল মামুন। সকাল ১০টায় কাউন্সিল শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় দুপুর ১টায়। পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভোটদান শুরু হয়।
এর আগে দলের সদস্য সচিব নুরুল হকের সমর্থকদের ডাকা কাউন্সিলে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার অনুসারীরা। তবে শেষ সময়ে সাধারণ সম্পাদক পদে রেজা কিবরিয়ার ঘোষিত সদস্য সচিব হাসান আল মামুন কাউন্সিলের ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গতকালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উচ্চতর পরিষদের আট সদস্য পদেও ভোট হয়। জাতীয় কাউন্সিলের ভোটার ২১৬ জন।
রাতে ফলাফল ঘোষণা করেন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফুল ইসলাম। দলের উচ্চতর পরিষদের ভোটে জয় পেয়েছেন আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, হানিফ খান, শহিদুল ইসলাম, ফাতেমা তাসনিম, আব্দুজ জাহের, নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও জসিম উদ্দিন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন আবু হানিফ।
কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন তিনজন। সদস্য সচিব নুরুল হক ছাড়া অন্য দুজন হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল উস সাকিব ও সহকারী আহ্বায়ক বায়েজিদ শাহেদ। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। তারা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, বিপ্লব কুমার পোদ্দার, মাহফুজুর রহমান খান, হাসান আল মামুন ও যুগ্ম সদস্য সচিব জিল্লু খান। উচ্চতর পরিষদের আটটি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১৮ জন।
গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ দুই নেতা রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হকের বিরোধ থেকে বেশ কয়েক দিন ধরে দলে অস্থিরতা চলছে। দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি, অনাস্থা প্রস্তাব, অপসারণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ১ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে নুরুল হকের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা আহ্বায়কের পদ থেকে রেজা কিবরিয়াকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। ওই বৈঠকে ১০ জুলাই জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণাও দেওয়া হয়। এ ঘটনার ছয় দিন পর গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য ঘোষণা দেন, রেজা কিবরিয়াই দলের আহ্বায়ক আছেন। তারা অভিযোগ করেন, রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের কাউন্সিলের দিন নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে দলকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেজা কিবরিয়ার অনুসারীরা কাউন্সিল পেছানোর দাবি করেছিলেন। কিন্তু নুরুল হকের অনুসারীরা তা মানতে রাজি হননি।
শেষ সময়ে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘দলকে সম্ভাব্য ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে প্রার্থী হয়েছি। দুপক্ষের মধ্যে শেষ সময় পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ (গতকাল) তো শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। তাই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কেউ কাউন্সিলে অংশ না নিলেও পরে কমিটিতে আসার সুযোগ থাকবে।’
