দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবার পায়নি মুজিব বর্ষের ঘর

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ০৪:২০ পিএম

কক্সবাজার জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় অতি-দরিদ্র এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ শীর্ণ ঘরে অতিকষ্টে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের খামখেয়ালিপনায় মুজিব বর্ষের ঘর পায়নি। এ অভিযোগ করেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই দম্পতি।

গত এক বছর আগে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মুজিব বর্ষের ঘর পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করেছিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারটি। এরপরও পায়নি ঘর।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আসাব উদ্দিন (৩৮) ও নাছিমা বেগম (২০)। তারা কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নয়াঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। তারা দুজনেই স্বামী-স্ত্রী এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই সারাদিন কুতুবদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান। তাদের মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই। জীর্ণ শীর্ণ ঘরেই এ দম্পতি তাদের চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করে এ ঘরেই অতিকষ্টে বসবাস করেন। গত দুই বছর ধরে কুতুবদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের প্রণীত তালিকামতে উপকারভোগী বাছাই করে মুজিব বর্ষের ঘর দিলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আসহাব উদ্দিনের পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি মুজিব বর্ষের ঘর।

দেখা গেছে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আসাব উদ্দিন ও নাছিমা বেগম দম্পতির বসতঘর ভাঙা মাটির দেয়াল, মরিচা ধরা ঝরঝরে হয়ে গেছে গোটা ঘরের চালের টিন। টিনে তৈরি হয়েছে হাজারও ফুটো। আর তাতে সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে যায় ঘরে থাকা কাপড় চোপড়সহ সবকিছু। দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে ঘরের কাঠামোর অবস্থা এতটাই জরাজীর্ণ যে কোনো সময় ঘরটিতে বড় ধারণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অতিদরিদ্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আসাব উদ্দিন বলেন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে ৬সদস্যের পরিবার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মানুষের কাছে ভিক্ষা করে যা পাই, তা দিয়ে ঠিকমতো পরিবারের খরচ জোগাতে পারি না। ঘরের মাটির দেয়াল ভেঙে পড়েছে। গোটা ঘরের চাল ঝরঝরে হয়ে গেছে। তবুও এই ভাঙা ঘরে বসবাস করছি। আসহাব উদ্দিন আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাদের খামখেয়ালিপনায় মুজিব বর্ষের একটি ঘর পাইনি। কুতুবদিয়া প্রশাসন যদি আমাদের দিকে একটু সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে আমরা একটি ঘর পাব বলে আশাবাদী।

আসাব উদ্দিনের স্ত্রী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাছিমা বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুমে রাতে বৃষ্টি হলে সারারাত পরিবারের সবাইকে ঘরের এককোনে নিয়ে বসে বসে নির্ঘূম রাত কাটাতে হয়। ঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়। ভাঙা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে মাঝে মধ্যে কুকুর-বিড়াল ঢুকে খাবার খেয়ে ফেলে। এছাড়াও আমরা সারাক্ষণ ঘরের নিচে চাপা পড়ার ভয়ে থাকি।

কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য জালাল আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, কুতুবদিয়ার সাবেক ইউএনও ডা. নুরের জামান চৌধুরীর কাছে মুজিব বর্ষের ঘর পাওয়ার জন্য আবেদনও করেছিল তার ওয়ার্ড়ের দরিদ্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আহসহাব উদ্দিন। আবেদন করেও ঘর পায়নি। প্রতিবন্ধী পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য তিনি নিজেও সাবেক ইউএনও’র কাছে সুপারিশ করেছিলেন।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই পরিবারের বিষয়ে আমার জানা ছিল না। আমি কুতুবদিয়ায় যোগদান করেছি কয়েক মাস হলো। আমি আসার পূর্বে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবার তার দপ্তরে আবেদন করেছিল কিনা জানা নাই। তবে আমি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত