আন্দোলনরত শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়া সংক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১৬তম দিনের মতো কর্মসূচি পালনকালে এ ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।
এর আগে গতকাল দুপুরে রাজধানীর ইডেন কলেজে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন বিরোধী দল যেখানে কর্মসূচি পালন করছে সেখানে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) তাদের ডাকা কর্মসূচিতে যদি আন্দোলনরত শিক্ষকদের নিরাপত্তা বিঘিœত হয় তাহলে তার দায়িত্ব কে নেবেন? এ দায়িত্ব কি আন্দোলনরত শিক্ষকদের নেতারা নিতে পারবেন? কাজেই আমি অবশ্যই বলছি আজকে (গতকাল বুধবার) তারা যেন ফিরে যান।’
তবে রাজধানীতে দুই রাজনৈতিক দল কর্মসূচি ডাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। আজ দুপুর পর্যন্ত ৬০ জন কেন্দ্রীয় নেতা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেবেন। এরপর থেকে কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষকদের আসার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।
দীপু মনি বলেছেন, জাতীয়করণের দাবিটা দীর্ঘদিনের। সব শিক্ষক সংগঠনই এটা চেয়েছে, চেয়ে আসছে। কিন্তু জাতীয়করণ কোনো সরল ব্যাপার না। আমাদের ৫৭ থেকে ৫৮ প্রকারের শিক্ষক আছেন। সেদিন আলোচনা করে দেখলাম জাতীয়করণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের মধ্যে নেই। ফলে পরস্পর বিরোধী অনেক কথা এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জাতীয়করণের বিষয়ে দুটি কর্মশালা করছি। যেখানে সব শিক্ষক সংগঠনের নেতারা আসবেন। আমি আশা করব, আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা সে কর্মশালায় আসবেন। সেখানে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে ‘ব্রেইনস্ট্রোম’ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শিক্ষকদের : মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সাটুরিয়া পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছানিহুর আক্তার।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বালিয়াটী ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান খান, ধানকোড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসারসহ অনেকেই।
এ সময় ধুল্যা বিএম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাজাহান, দরগ্রাম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান, জান্না উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হাবিবুর রহমান, আবদুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া, ২৫% উৎসবভাতা এবং মাত্র ৫০০ টাকা চিকিৎসা-ভাতা পান। এই যুগে এই টাকা আমাদের অসম্মান করা হচ্ছে। আমরা একযোগে আন্দোলন করছি, ক্লাস বর্জন করছি। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিদের অফিসে ডেকে নিয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের অপমান করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী কিছু অসাধু ও নামধারী শিক্ষক নেতা দ্বারা ভুলপথে পরিচালিত হচ্ছেন। এই শিক্ষামন্ত্রী দিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা বলেন, একদেশে দুই নীতি চলতে পারে না। সরকার যদি অনতিবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ব্যবস্থা না করে, আন্দোলনরত শিক্ষকরা ঘরে ফিরে যাবেন না।
