টিম অমিত হাবিব

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৩, ০৬:৩৬ পিএম

সময়টা ২০০৯ সাল। বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে একের পর এক যুক্ত হচ্ছে নতুন সংবাদপত্র। সে বছরের ১ নভেম্বর। সমকাল থেকে কালের কণ্ঠের রিপোর্টিং বিভাগে ‘সেল চিফ’ হিসেবে যোগ দিই আমি। তখন পত্রিকাটির ‘সফট ডামি’ চলছিল। রিপোর্টিং বিভাগের যাবতীয় কার্যক্রম পাঁচটি সেলের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, বাংলাদেশের মিডিয়া হাউজে এ সেল পদ্ধতি অমিতদার (অমিত হাবিব) নিজস্ব চিন্তার ফসল, যা দৈনিক যায়যায়দিন থেকে শুরু করেছিলেন। যাই হোক, আমি যে সেলের দায়িত্বে ছিলাম, সেটার নাম ছিল ‘সরকার ও জনপ্রশাসন’। সেখানে ছিল বাংলাদেশ সচিবালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কূটনীতি ও যোগাযোগ খাত। কূটনৈতিক রিপোর্টার ছিলেন বশির আহমেদ। কিন্তু পত্রিকা বের হওয়ার কয়েক দিন আগেই বশির আরেকটি পত্রিকায় চলে যান। রীতিমতো আমার ‘কপালে ভাঁজ’। অমিতদা ছিলেন কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, ‘আপনি কি চিন্তিত? টেনশন করবেন না, বুদ্ধি করে কাজ করে ফেলবেন, এরপর টেনশন। চিন্তার কোনো কারণ নেই।’ আমি বললাম কীভাবে সম্ভব, এত দ্রুত কোত্থেকে রিপোর্টার আনব। তিনি তার চিরাচরিত শব্দহীন কঠিন অর্থবহ হাসিতে বাম গালে হাত দিয়ে বললেন, ‘আজই দেব, আবেদ ভাইয়ের (কালের কণ্ঠের তৎকালীন সম্পাদক আবেদ খান) সঙ্গে আলাপ করে নিই।’ কয়েক ঘণ্টা পর আমার রুমে এসে দেখা করল এডিটরিয়াল বিভাগের সিনিয়র সহসম্পাদক মেহেদী হাসান। ও বলল, ‘ভাই, আমাকে কূটনৈতিক রিপোর্টার হিসেবে আপনার সেলে ট্রান্সফার করা হয়েছে। আজ থেকেই কাজ শুরু করতে চাই।’ আমি বললাম, ‘কখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছ?’ সে বলল, ‘না। তবে কোনো অসুবিধা হবে না ভাই।’ তারপর মেহেদীকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। দুর্দান্ত ও অসাধারণ সব রিপোর্ট করে অল্প সময়ে দেশের কূটনৈতিক রিপোর্টারদের শীর্ষ কয়েকজনের মধ্যে জায়গা করে নেয়।

অথচ তখন আমাদের কারও মাথায় আসেনি যে, মেহেদী একজন রিপোর্টার হবে, আবার কূটনৈতিক বিটের। কিন্তু অমিতদা ঠিকই টের পেয়েছিলেন। খুঁজে বের করেছিলেন ওর প্রতিভাকে। আজ মেহেদী তার বিটের একজন নামকরা সাংবাদিক।

শুধু মেহেদী নয়, এভাবেই অমিতদা অসংখ্য মেধাবী ও পরিশ্রমীদের খুঁজে বের করে সঠিক স্থানে বসিয়েছেন। তাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, অমিতদা প্রায় সময়ই বলতেন দৈনিক পত্রিকা হচ্ছে প্রতিদিনের যুদ্ধ। এখানে আলসেমির কোনো সুযোগ নেই। যার যার কাজের ব্যাপারে দিনভর ‘ধ্যান’ করতে হবে। সব বিষয়েই আপডেট থাকতে হবে। ছোট ছোট বাক্য, নির্ভুল বানান, আকর্ষণীয় সব হেডিং দিতে হবে। তাহলেই একটি পত্রিকা সহজেই পাঠকের মন জয় করতে পারবে। শেষের দিকে আরও বলতেন, এখন ডিজিটালের যুগ। সব খবর টিভি, নিউজপোর্টালে প্রতিমুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে। তাই পত্রিকার পাতায় থাকতে হবে একেবারেই নতুন অর্থাৎ ব্রেকিং নিউজ। অথবা সারা দিনে যেসব নিউজ সৃষ্টি হয়, সেগুলোর নেপথ্যে যা আছে, তা তুলে আনতে হবে। আর এগুলো সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করতে দরকার দক্ষ মানবসম্পদ। এ ক্ষেত্রে তিনি অগ্রাধিকার দিতেন মেধাবী ও পরিশ্রমীদের। তার ধারণা ছিলÑ অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে, অন্যদিকে মেধাসম্পন্ন মানুষ অলসতার কারণে সেই লক্ষ্যে যেতে পারে না। আর দৈনিক পত্রিকায় অলস মানুষের কোনো জায়গা নেই।

পত্রিকার সব বিভাগেই নিয়োগের সময় সেরাদের নিয়ে টিম গঠনের চেষ্টা করতেন। তবে রিপোর্টিং ও ফটো বিভাগের ওপর বিশেষ নজর ছিল তার। অমিতদা একটি কথা প্রায় সময়ই বলতেন, ভালো বাজার না করলে, রাঁধুনি যতই ভালো হোক না কেন, রান্না ভালো হবে না। রিপোর্টার যদি ভালো রিপোর্ট না আনেন অথবা ফটোসাংবাদিক যদি ভালো ছবি তুলতে না পারেন, তাহলে পত্রিকার প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা কেমন করে সাজাব। এ দুই পৃষ্ঠায় আকর্ষণীয় সব নিউজ ও ছবি দিয়ে সাজাতে পারলে পাঠকের চোখ পত্রিকার ওপর পড়তে বাধ্য।

তিনি বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করেছেন। এর মধ্যে যায়যায়দিন, কালের কণ্ঠ ও দেশ রূপান্তর অন্যতম। পত্রিকাগুলোর টিম গঠনে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন দাদা। টিম করার সময় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেখেছি দাদার সাংবাদিক অন্বেষণের নানা প্রক্রিয়া। গভীর অনুসন্ধানের পর খুঁজে বের করতেন মেধাবী ও পরিশ্রমীদের। এ ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। প্রায় প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকাগুলো (বাংলা ও ইংরেজি) মনোযোগ দিয়ে স্ক্যান করতেন। বিভিন্ন পত্রিকার ভালো প্রতিবেদনের রিপোর্টারের নাম বাছাই করতেন। হয়তো ওই রিপোর্টারকে তিনি কোনো দিন দেখেননি। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে ২০০৫ সালের শেষের দিকে। দাদা যায়যায়দিন পত্রিকার টিম করছিলেন। তখন আমি নিউএজে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ করি। ২০০৩ সালের শুরুর দিকে ভোরের কাগজ থেকে আমি নিউএজে যোগ দিই। তখন ভোরের কাগজের বার্তা সম্পাদক ছিলেন অমিতদা। সেই সূত্রে আমি তার বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলাম। নিউএজে কাজ করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সবসময়ই ছিল। একদিন আমাকে দৈনিক যায়যায়দিনে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর আমাকে কূটনৈতিক প্রতিবেদক রাহীদ এজাজ (বর্তমানে প্রথম আলোর কূটনৈতিক রিপোর্টার), বিজনেস রিপোর্টার আসজাদুল কিবরিয়া (বর্তমানে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্ল্যানিং এডিটর, এনার্জি বিটের রিপোর্টার শামসুল আল আমীন শামীমকে (পেশা ছেড়ে ইউএসএইডির একটি প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, এদের যায়যায়দিনে আনতে চাই। ওরা অনেক ভালো রিপোর্ট করেন। আমি বললাম, ওরা তো ইংরেজি সাংবাদিকতা করেন। আবার আপনার সঙ্গে পরিচয়ও নেই। তিনি বললেন, তাতে কী, আপনিও তো ইংরেজি পত্রিকায় আছেন। আমার উত্তরÑ কিন্তু আপনার সঙ্গে তো আমার অনেক দিনের সম্পর্ক। তখন তিনি তার চিরাচরিত মুচকি হাসি না দিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে আমার উদ্দেশে বললেন, অনেক দিনের সম্পর্ক বিবেচনায় কিন্তু আপনাকে টিমে নেওয়া হয়নি। আপনার কাজের জন্যই নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আমি তখন সচিবালয় বিটের একজন সক্রিয় রিপোর্টার হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছি। যাই হোক, আমিসহ আমার ওই তিন সহকর্মী যায়যায়দিনে যোগ দিয়ে ফেললাম। শুধু তাই নয়, পরবর্তীকালে কালের কণ্ঠের টিম করার সময় আমার নিউএজের আরেক সহকর্মী টিটুদত্ত গুপ্তকে (বর্তমানে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর উপসম্পাদক) অর্থনীতি সেলের চিফ হিসেবে নিয়োগ দিলেন। এখানে বলা দরকার, ওই সময় টিটু বিজনেস বিটের একজন দক্ষ রিপোর্টার হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। যাই হোক, তিনি রিপোর্টারদের সবসময়ই স্পটে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। বলতেন, ‘রিপোর্টারের পায়ে পায়ে লক্ষ্মী।’ অর্থাৎ এ কথা দিয়ে বোঝাতে চাইতেন যে, স্পটে উপস্থিত থাকলে অথবা যত বেশি সোর্সের কাছে যাওয়া যাবে, ততই সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার সমৃদ্ধ হবেন, প্রতিবেদনটি হবে জীবন্ত, পাওয়া যাবে টাটকা সব তথ্য-উপাত্ত। এ ক্ষেত্রে বারবার রিপোর্টারদের মনে করিয়ে দিতেন পরিশ্রমের বিকল্প নেই। নতুন রিপোর্টিং টিম গঠনের সময় এসব বিষয় বেশ ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নিতেন তিনি।

অন্যদিকে ডেস্কের লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অমিতদা যেসব বিষয় খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন, সেগুলো হচ্ছেÑ ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদে পারদর্শী কি না, বাংলা ভাষায় দক্ষতা এবং নিউজ ও কমন সেন্স। তিনি বলতেন, সম্পাদনা হচ্ছে একটি শিল্প। আর এসব গুণাবলি না থাকলে একটি রিপোর্ট সুপাঠ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি নিয়মিত ডেইলি পত্রিকার ফাইল পড়ার ওপরও জোর দিতেন। বিশেষ করে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর আপডেট না থাকলে সম্পাদনা করার সময় তেমন কোনো ইনপুট দেওয়া যায় না অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশ্নও রিপোর্টারকে জিজ্ঞেস করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ রিপোর্টার যা লিখবেন, সেই লেখার ওপরই ব্যাকরণ অথবা বানান অথবা বাক্য ঠিক করেই ছেড়ে দিতে হবে। এতে কনটেন্ট সমৃদ্ধ হবে না। একজন রিপোর্টার নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন দাঁড় করালে সেটি ঘষামাজা করে পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করার মূল দায়িত্ব হচ্ছে একজন সহসম্পাদকের।

অমিত দা আরও বলতেন, উল্লিখিত গুণাবলি কোনো সহসম্পাদকের থাকলে সে হেডিং, শোল্ডার, টিকার ও গ্রাফিকসের ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন সম্পাদক অথবা মেকআপ প্যানেলের সংশ্লিষ্টদের। এতে একটি প্রতিবেদন পাঠককে খুব সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে। এখানেই নিউজ ডেস্ক সদস্যের মুনশিয়ানা।

একটি প্রতিবেদন তৈরির সময় বেশ গুরুত্ব দিতেন হেডিং এবং ইন্ট্রো বা সূচনার (সংবাদপত্রে পরিভাষা) ওপর। এখানে উল্লেখ করতে চাইÑ ভোরের কাগজ, যায়যায়দিন, সমকাল ও কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আমার ৯৯ শতাংশ রিপোর্ট অমিতদা সম্পাদনা করেছেন। তিনি আমাকে পাশে বসিয়ে কাজ করতেন। খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার সম্পাদনাসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম। কোনো কোনো সময় তিনি প্রতিবেদনে সরাসরি বিষয়ভিত্তিক হেডিং না করে ‘থার্ড অ্যাঙ্গেল’ থেকে করতেন। এতে পাঠক নতুনত্বের স্বাদ পান। এ প্রসঙ্গে আমার একটি স্টোরির হেডিং উল্লেখ না করে পারছি না। তখন সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। একেবারেই ছোট একটি নিউজ। প্রথম পৃষ্ঠায় সিঙ্গেল কলাম ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনায়। কিন্তু মেকআপে বসে সারওয়ার ভাই (তৎকালীন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার) হেডিং দেখেই পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার ভাঁজের ওপরের দিকে বক্স আইটেম করে দিলেন। হেডিং ছিলÑ ‘দেড় মাসে তিন লাফ’। আমার বাই-লাইন স্টোরি ছিল। স্টোরির মূল বিষয় একজন সেলিব্রেটি আমলা সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি থেকে দেড় মাসে তিনটি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হয়েছিলেন। যা বিধিসম্মত হয়নি। যদিও ওই আমলা আগে একাধিকবার পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছিলেন। কিন্তু পদোন্নতি পেতে ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। সেটি অনুসরণ করা হয়নি।

আরেকটি ঘটনা না বললে আজকের এ লেখাটিই অপূর্ণ থেকে যাবে। কারণ আমি অমিতদাকে নিয়ে যার অনুরোধে লিখছি, তিনি হলেন দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন। তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে ক্রীড়া সাংবাদিকতায়। স্পোর্টস রিপোর্টিংয়ে একজন ব্যতিক্রমী ও তারকা রিপোর্টার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন। আমি নিজেও তার লেখার বেশ ভক্ত। তিনিও অমিতদার যায়যায়দিন ও কালের কণ্ঠের টিমের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। দুটিতেই তিনি স্পোর্টস এডিটরের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে কালের কণ্ঠের উপসম্পাদক হয়েছিলেন। মামুনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন দাদা। আমাকে বলতেন, মামুনকে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে হবে। আমি বললাম, স্পোর্টস থেকে? জি, ওর মধ্যে প্রতিভা আছে, আমি টের পেয়েছি। ঠিকই অমিতদা তাকে দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। দাদার মৃত্যুর পর এখন তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। পত্রিকা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সাংবাদিকতা জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে ক্রীড়াজগতে। অর্থাৎ মোস্তফা মামুনকে তিনি ঠিকই চিনেছিলেন, নিয়েছিলেন তার সর্বশেষ পত্রিকা টিম দেশ রূপান্তরে।

সবশেষে বলতে চাই, অমিতদা প্রায়োগিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। প্রথাগত সাংবাদিকতার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক ও নতুন ধারার সংবাদ জগৎ সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেছিলেন। সাংবাদিকতার ভাষাকে আরও সহজবোধ্য করে পাঠকের মনোজগৎ বিস্তৃত করার প্রয়াস ছিল। তার সেই চিন্তা-চেতনা, মেধা ও জ্ঞান শুধু নিজের ভেতরে না রেখে সহকর্মীদের মধ্যে প্রোথিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। নিজের টিমের কেউ তার সেই আলোর স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হতেন না। সেই আলোতে আলোকিত হয়েই আজকের আধুনিক সাংবাদিকতার অনেক তারকার জন্ম। সেই আলোর পেছনের ‘বাতিঘর’ অমিতদা আজ অনেক দূরে থেকেও যেন তার বিকিরণ ছড়িয়ে যাচ্ছেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়Ñ

‘প্রয়োজন আরও অনেক কিছুর জানি

আপাতত দেই শুধু এই ক’টি শব্দ।

এই নিয়ে হোক তোমাদের পথচলা

চলতে চলতে চেনা হোক পথখানি

জানা হোক গত পথের বিঘœগুলি।

তারপর যদি বিঘœ ডিঙাতে চাও

এসো মোর কাছে, আছে আরও আছে

তোমার হাতেই তুলে দেব বলে এত

লুকিয়ে রেখেছি ভালোবাসা চাপা দিয়ে

বুকের ভিতরে নির্ঘুম নিস্তব্ধ

স্বপ্ন আমার, সাধনা আমার যত।’

লেখক : উপসম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত