সাভার বাজার রোডের অগ্রণী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক ভবনের মাঝখানের সরু গলি থেকে আব্দুল খালেক নামের এক ব্যবসায়ীর আঘাত প্রাপ্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
তার পরিবারের দাবি, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা এবং জমি সংক্রান্ত ঘটনার জেরে ব্যবসায়ী আবদুল খালেককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ এই মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, গত ডিসেম্বরে আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাদের নামে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এর জের ধরে আমার শ্যালক ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাদেরকে হুমকি-ধামকিসহ আমার বাসায় ভাংচুর করে। মামলার এক ও দুই নম্বর আসামি আদালতের মধ্যেই বিচারকে সামনে আমাদেরকে মারধরের চেষ্টা করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। মামলার আসামিদের কাছ থেকে আমার বাবা একটি জমি কেনার জন্য সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা বায়না করেছিলো। কিন্তু জমিতে ভেজাল থাকায় এবং তারা আমাদের সাথে প্রতারণা আশ্রয় নেওয়ায় আমার বাবা জমিটা কিনবে না বলে জানান। এঘটনায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আব্দুর রহিম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে তা দাফন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও বিষয়টির তদন্ত শুরু করেনি। আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-মামুন কবিরকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত আছে বলে জানান। এছাড়া মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম উল্লেখ করলেও মামলার অনলাইন কপিতে আসামিদের অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা হলে এবং ঘটনার রাতে তার বাড়ির ছাদে নিরাপত্তা কর্মী হারুনসহ আরও অবস্থানকারী চার যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-মামুন কবিরের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী রমুজা বেগম বলেন, ‘আমি হত্যাকান্ডের সুক্ষ বিচার চাই এবং আমার স্বামীকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। একই দাবি নিহতের মা আছিয়া খাতুনের। তিনিও ছেলে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।’
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘এখনও এঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
