গ্রেট হিমালয় ট্রেইল জয়ের গল্প শোনালেন ইকরামুল

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০৮:২২ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরের নিভৃত পল্লির এক শতবর্ষী আমগাছের নিচে বিকেলের দারুণ এক আড্ডা জমে সদ্য হিমালয় জয়ী ইকরামুল হাসান শাকিলকে ঘিরে। আজ শনিবার বিকেলে মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে আম গাছের নিচে শতাধিক শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ এ আড্ডায় যোগ দেন ইকরামুলের হিমালয় জয়ের গল্প শুনতে।

আজকের এ আড্ডার আয়োজন করেছে ‘পাঠইচ্ছা’ পল্লী উন্নয়ন পাঠাগার। সবাই ২৯ বছর বয়সী অদম্য ইকরামুলের কথাগুলো শুনেছেন নিবিষ্ট হয়ে । বিকেলের আড্ডার এ গল্পে ডুবে যান মন্ত্রমুগ্ধ সবাই।

ইকরামুল হাসান শাকিল পাশের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা গ্রামের বাসিন্দা।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাঈদ চৌধুরী জানান, ‘পাঠইচ্ছা’ পল্লী উন্নয়ন পাঠাগারের বিশাল শতবর্ষী আমতলায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো বিষয়ে জমে জানার আড্ডা। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয় । এ সপ্তাহের পাঠচক্র বসেছিল পর্বতশৃঙ্গ সম্পর্কে জানা ও তা জয়ের গল্প শোনা নিয়ে। আমাদের এ আড্ডায় ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক সেলিম রেজা।

গল্প থেকে জানা যায়, হিমালয় জয়ের আগে ২০১৩ সালে ‘বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’-এ যোগ দেন ইকরামুল হাসান। পর্বতারোহনের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন ভারত থেকে। ২০১৫ সালে পর্বতারোহী এম এ মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ২০ হাজার ২৯০ ফুট উচ্চতার কেয়াজো-রি পর্বত শৃঙ্গ জয় করতে বের হন। সে সময় দুই সঙ্গীসহ ইকরামুল শৃঙ্গটি জয় করেন। ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেইনিয়ারিং থেকেও প্রশিক্ষণ নেন।

২০১৮ সালে প্রশিক্ষণের সময়েই তিনি জয় করেন ‘দ্রৌপদী-কা-ডান্ডা-২’ শৃঙ্গ। পরের বছর ২০১৯ সালে বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের আট পর্বতারোহী ‘হিমলুং’ জয়ের অভিযানে যায়। ওই দলে ছিলেন ইকরামুলও। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেবার হিমলুং-এর চূড়ায় পা রাখেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর (২০২৩ সাল) গ্রেট হিমালয় ট্রেইল জয় করেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

এ ছাড়া ২০১৩ সালে কলকাতা থেকে হেঁটে ১১ দিনে ঢাকায় পৌঁছে রেকর্ড গড়েন তিনি। বর্তমানে ইকরামুল হাসান বেশকিছু টিভি অনুষ্ঠান ও নাটকে সহকারী নির্দেশক হিসেবে কাজ করছেন। তৈরি করেছেন পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। পর্বত আরোহণের ওপরে লিখেছেন বেশ কয়েকটি বইও।

এদিনের আড্ডা প্রসঙ্গে পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল জানান, শিক্ষার্থীরা খুব কৌতুহলী ছিল আমার হিমালয় জয়ের গল্প শুনতে। পাহাড় পর্বত - সম্পর্কে জানতে চাওয়া এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দারুণ একটা সময় কেটেছে। তাদের নানা জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতেও বেশ আনন্দ লেগেছে। আমাকে তাদের আড্ডায় পেয়ে তারাও দারুণ আনন্দিত। আমিও আমার সাফল্যের গল্প বলতে বলতে তাদের ভেতরে ঢুকতে পেরেছি। শিশুদের ভেতরে ঢুকতে পারাটাও আরেক সাফল্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত