বোমা মেরে যুদ্ধ থামাতে চেয়েছিলেন ওপেনহাইমার

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ১০:২৭ পিএম

ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ওপেনহাইমার বিশ্বব্যাপী বেশ সাড়া ফেলেছে। পারমাণবিক বোমার জনক ওপেনহাইমারকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে বোমা হামলার পর রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই পদার্থবিজ্ঞানীকে নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

ম্যানহাটন প্রজেক্ট

সব মানুষের জীবন ঘটনাবহুল হয় না। আবার কিছু মানুষ তাদের জীবনে এত বেশি ঘটনার সম্মুখীন হন যে, দশকের পর দশক ধরে তাদের নিয়ে আলোচনা জারি থাকে। তেমনই একজন জুলিয়াস রবার্ট ওপেনহাইমার। নাটকীয়তা ও জটিল পরিস্থিতিতে ভরপুর তার জীবন। অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন জীবনে। আবার ট্র্যাজেডিও তাকে ছাড়েনি। তাকে নিয়ে সিনেমা বানানো হবে, এটাই স্বাভাবিক। ওপেনহাইমার ছিলেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। তিনি যে সময়ের প্রতিনিধি, সে সময় তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের বিজ্ঞানের রকস্টার হিসেবে দেখা হতো। তবে তার বিশ্বব্যাপী পরিচিতির কারণ ভিন্ন। ম্যানহাটন প্রজেক্টে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক নামে তাকে সবাই চেনেন। কী এই ম্যানহাটন প্রজেক্ট? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের টপ সিক্রেট উদ্যোগ ছিল ম্যানহাটন প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরি করেন। ম্যানহাটন প্রজেক্টের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এবং যুক্তরাজ্য ও কানাডার সমর্থনে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়। ওই সময় ওপেনহাইমারের বয়স ছিল মাত্র ৩৯। মানব ইতিহাসের স্মরণীয় ওই ঘটনার পর রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিখ্যাত, আরাধ্য ও প্রভাবশালী বিজ্ঞানীতে পরিণত হন ওপেনহাইমার। বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন সে সময় তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। আইনস্টাইন ও ওপেনহাইমার একই প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা হামলার পর ওপেনহাইমার ওই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। অবশ্য সে সময় তিনি ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এটা ঠিক, পারমাণবিক বোমা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করতেন ওপেনহাইমার। হিরোশিমায় বোমা ফেলার বিষয়ে তার সমর্থন ছিল। কিন্তু তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন, ১৯৪৫ সালের আগস্টে প্রথম এবং শেষবারের মতো পারমাণবিক বোমা ব্যবহার হোক। আসলে আইনস্টাইনের মতো ওপেনহাইমারও অত্যন্ত যুদ্ধবিরোধী ছিলেন। তার এই অবস্থানের কারণে তাকে ভুগতে হয়। তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন এমনটা মনে করত মার্কিন প্রশাসন। সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর সন্দেহে তাকে একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, হেনস্তা করা হয় এবং নিরাপত্তা দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশের গোপনীয় তথ্য তার কাছে নিরাপদ নয়Ñ এই সিদ্ধান্তে এসেছিল মার্কিন প্রশাসন। সরকারের যত উপদেষ্টা পদে ওপেনহাইমার ছিলেন, সেসব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ তাকে পরিচালক পদ থেকে সরায়নি। ওই পদে প্রায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ৬৩ বছর বয়সে গলায় ক্যানসারে তিনি মারা যান।

দুর্দান্ত শুরু

ওপেনহাইমার ছিলেন জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দ্বিতীয় প্রজন্মের ইহুদি অভিবাসী। নিউ ইয়র্কে বড় হন তিনি। তার বাবা টেক্সটাইল ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। পড়াশোনায় ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিলেন ওপেনহাইমার। মানুষের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। ১৯২১ সালে ১৭ বছর বয়সে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন ওপেনহাইমার। ওই সময় পদার্থবিজ্ঞানে নতুন নতুন বৈপ্লবিক আবিষ্কার তাকে আকৃষ্ট করে। একপর্যায়ে ফেকাল্টি মেম্বারদের কাছে রসায়নের পাশাপাশি পদার্থবিদ্যার ক্লাস করার অনুমতি চান তিনি। অনুমতি পেতে পদার্থবিদ্যার যত বই তিনি পড়েছিলেন, সেসবের তালিকা তাদের কাছে জমা দেন। ব্রিটিশ লেখক রে মঙ্কের ওপেনহাইমারকে নিয়ে লেখা জীবনী ইনসাইড দ্য সেন্টার : দ্য লাইফ অব জে রবার্ট ওপেনহাইমারে ওই ফেকাল্টি মেম্বারদের একজন বলেন, ‘ওপেনহাইমার যদি বলেন, তালিকার সব বই তিনি পড়েছেন, তাহলে তিনি মিথ্যাবাদী। কিন্তু বইগুলোর নাম জানার জন্য হলেও তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া উচিত।’

মানসিক অসুস্থতা

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ইউরোপে রওনা দেন ওপেনহাইমার। মহাদেশটিতে সে সময় পদার্থবিজ্ঞানীরা এমন সব বিস্ময়কর কাজ করছিলেন, যার ফল ছিল কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা। ওপেনহাইমার পরীক্ষামূলক পদার্থবিদ্যা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরনেস্ট রাদারফোর্ড’স ল্যাবরেটরি তাতে রাজি হয়নি। প্রথমবারের মতো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কয়েক মাস পর্যন্ত ওপেনহাইমার সম্ভবত তার জীবনের অন্যতম বাজে সময় পার করেন। বিষণœতা তাকে পেয়ে বসে এবং কিছুদিন পর তার সিজোফ্রেনিয়া ধরে পড়ে। ওপেনহাইমারের বেশ কয়েকজন জীবনীকার তাদের বইয়ে উল্লেখ করেন, ওই সময় মানসিকভাবে তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে, একদিন ছেলেবেলার বন্ধু ফ্রান্সিস ফারগুসনের শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। প্যারিসে একদিন দুই বন্ধুর দেখা হয়েছিল এবং কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধুর গলা টিপে ধরেছিলেন ওপেনহাইমার। জীবনীকাররা ওই সময়ের আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করেন, যাতে বলা হয়, ওপেনহাইমার নাকি তার কয়েকজন বন্ধুকে বলেছিলেন, ল্যাবরেটরির এক শিক্ষক প্যাট্রিক ব্ল্যাকেটের ডেস্কে তিনি একটি বিষাক্ত আপেল রেখেছেন। ওপেনহাইমার সত্যিই ওই কাজ করেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি, তবে প্যাট্রিক ব্ল্যাকেট সুস্থ ছিলেন এবং ১৯৪৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। এ বিষয়ে ওপেনহাইমারের বন্ধু জন এডসালের বক্তব্য পাওয়া যায় রে মঙ্কের বইটিতে। সেখানে বলা হয়, প্যাট্রিক ব্ল্যাকেট মেধাবী তো ছিলেনই, দেখতেও সুদর্শন ছিলেন। মিশুক স্বভাবের হওয়ায় অনেকে তাকে পছন্দ করতেন। অন্যদিকে ওপেনহাইমার ব্ল্যাকেটের মতো তেমন সুদর্শন ছিলেন না। মানুষের সঙ্গে সেভাবে মিশতে না পারায় সমাজ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকতেন। এসব কারণে ওপেনহাইমার হীনম্মন্যতায় ভুগে থাকতে পারেন বলে মনে করেন এডসাল।

প্রথম সাফল্য

কোয়ান্টাম তত্ত্বের অন্যতম অগ্রদূত পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাক্স বর্নের দৃষ্টি একপর্যায়ে আকর্ষণে সক্ষম হয়েছিলেন ওপেনহাইমার। বর্ন তাকে তার সঙ্গে জার্মানির গটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ হিসেবে কাজ করার সময় মাত্র এক বছরে পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করেন ওপেনহাইমার। তার প্রকাশিত নিবন্ধগুলোর একটি বর্নের সহযোগিতায় লেখা এবং তাতে পদার্থবিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী ফলাফল ছিল। এটা ঠিক, ওপেনহাইমার কোয়ান্টাম তত্ত্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, তবে তিনি নিজে তো বটেই, আরও অনেক বিজ্ঞানী মনে করতেন, ইউরোপে আরও আগে গেলে ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ, এরউইন শ্রোডিঙ্গার, উলফগ্যাং পাওলি ও পল ডিরাকের মতো নামকরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন ওপেনহাইমার। গত শতকের বিশের দশকের শুরুতে নিউ ফিজিক্স এত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায় যে, মাত্র কয়েক বছরের পার্থক্য এক প্রজন্মের ফারাক ছিল। পদার্থবিজ্ঞানী ও আইনস্টাইন অ্যান্ড ওপেনহাইমার : দ্য মিনিং অব জিনিয়াসের লেখক সিলভান শোয়েবার বলেন, ‘ওপেনহাইমার এতটাই মেধাবী ছিলেন যে, আমি বিশ্বাস করি, ১৯২৫ ও ১৯২৬ সালে চূড়ান্ত সময়ে তিনি যদি থাকতেন, তাহলে কোয়ান্টাম মেকানিক্স সৃষ্টিতে তিনি একাই অবদান থাকতে পারতেন।’

সিলভান শোয়েবারের ওই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ওপেনহাইমারের সহকর্মী ও আলোচিত পদার্থবিজ্ঞানী আব্রাহাম পাইজ। তিনি ওপেনহাইমারকে নিয়ে লেখা জীবনীতে বলেন, ‘কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নতুন যুগে ওপেনহাইমার যখন প্রবেশ করেন, সে সময় নিউ মেকানিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ, উলফগ্যাং পাওলি ও পল ডিরাক তার থেকে মাত্র দুই থেকে চার বছর এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু যেহেতু ওই সময় পদার্থবিজ্ঞান এত দ্রুতগতিতে এগোয় যে, মাত্র কয়েক বছরের পার্থক্যের অর্থ এক প্রজন্মের ফারাক, তাই তিনি পিছিয়ে পড়েছিলেন। আমি মনে করি, ১৯২৫ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে ওপেনহাইমার পদার্থবিজ্ঞানে যথেষ্ট অবদান রাখেন। কিন্তু দেরিতে ইউরোপে এসেছিলেন বলে ওপেনহাইমারের মতো উচ্চাকাক্সক্ষী ও অসাধারণ প্রতিভার তরুণ অমরত্ব হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।’ ১৯৩০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে কোয়ান্টাম ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোফিজিক্সসহ পদার্থবিজ্ঞানের আরও বিষয় নিয়ে বহু নিবন্ধ প্রকাশ করেন ওপেনহাইমার।

ওপেনহাইমার নিজে কখনো কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন না। তবে তার প্রথম প্রেমিকা, স্ত্রী, বন্ধু ও ছাত্রদের অনেকে বামপন্থি ছিলেন। কাছের জনেরা বামপন্থি আন্দোলনের সমর্থক বা সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকায় এবং কমিউনিস্ট পার্টিকে অর্থ সহায়তা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) নজরদারিতে পড়েন তিনি। ওপেনহাইমারের ঘনিষ্ঠজনদের বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা তার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সংস্কৃতে আগ্রহ

সংস্কৃত ভাষার প্রতি ওপেনহাইমারের আগ্রহ মামুলি কোনো বিষয় ছিল না। কোয়ান্টাম ফিজিক্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নিলস বোর, এরউইন শ্রোডিঙ্গার, ওয়ার্নার হাইজেনবার্গসহ আরও অনেক বিজ্ঞানীকে সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন ভারতের মহাকাব্যের বার্তা অনুপ্রাণিত করে। ওপেনহাইমারও তাদের একজন ছিলেন। তবে তিনি অন্যদের থেকে ভিন্ন ছিলেন। প্রাচীন ভারতের মহাকাব্য পড়ার জন্য সংস্কৃত ভাষাই শিখে নিয়েছিলেন ওপেনহাইমার। রে মঙ্ক ওপেনহাইমারের জীবনীতে লেখেন, কেবল গীতা নয়, কালিদাসের মেঘদূত ও পঞ্চতন্ত্রও পড়েন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, গীতা যেভাবে কর্মফল ও শেষ ফলাফল থেকে বিচ্ছিন্নতার ওপর জোর দেয়, তার প্রভাব ওপেনহাইমারের পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়েও দেখা যায়। অনেকের মতো তিনিও মনে করতেন, পারমাণবিক বোমা সব যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। মার্কিন প্রশাসনের যে কমিটি হিরোশিমাকে টার্গেট হিসেবে বাছাই করেছিল, তার সদস্য ছিলেন ওপেনহাইমার। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার ওপেনহাইমারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য তিনি অনুতপ্ত কি না। প্রতিবারই ওপেনহাইমার জবাবে জানান, তিনি মোটেও অনুতপ্ত নন। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন না ওপেনহাইমার। এ নিয়ে তার নিজের ভেতরে দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি একবার বলেছিলেন, শেষ ফলাফল থেকে বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে গীতায় উল্লিখিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বার্তা তাকে সান্ত্বনা দিতে পারেনি। তিনি হিন্দু ছিলেন না বলে এমনটা হতে পারে। ওপেনহাইমার বলেন, ‘অর্জুনের সঙ্গে বিষ্ণুর তর্ক-বিতর্ক আমাকে শান্ত না করার কারণ আমি ইহুদি, তার চেয়ে বেশি খ্রিস্টান ও ইউরোপীয় এবং তারও বেশি আমেরিকান। মানুষের ইতিহাসের অর্থপূর্ণতা আমি বিশ্বাস করি। তাতে আমাদের ভূমিকা ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ ওপেনহাইমারের এক জীবনীকার লিখেছেন, ‘জাগতিক বিচ্ছিন্নতার সন্ধান করেছিলেন ওপেনহাইমার। তিনি চেয়েছিলেন, বস্তুজগতের সঙ্গে বিজ্ঞানী হিসেবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে, যদিও সে সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবেন তিনি। আধ্যাত্মিক জগতে পালাতে চাননি ওপেনহাইমার। ধর্মের দিকেও ঝোঁকার চেষ্টা করেননি। সবসময় মনের শান্তি খোঁজার চেষ্টা করে যান তিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত