ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় এসে গাড়ির চাপায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন নাজমা বেগম (৪৬) নামে এক নারী। গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গাপ্রেস লাল মসজিদের সামনের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাজমা বেগম। তার ছেলে ও পুলিশের দাবি, চাপা দেওয়া গাড়িটি ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) ময়লার গাড়ি। তবে ঢাদসিকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গতকাল তাদের ময়লার গাড়িতে কেউ হতাহত হননি।
এদিকে গতকাল দেশের আরও দুটি জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ১১ মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।
স্বজনরা জানান, ঢাকায় নিহত নাজমা বেগমের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পখিয়া গ্রামে। স্বামী মৃত ইউনুস মিয়া। তার দুই ছেলে রয়েছে।
ছেলে আবদুল মমিন জানান, সাত থেকে আট বছর ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন নাজমা বেগম। নিয়মিত ঢাকায় এসে চিকিৎসা নিতেন। চার মাস আগে সবশেষ চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে যান। গত শুক্রবার বিকেলে মমিনকে সঙ্গে নিয়ে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। গতকাল ভোরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নেমে সেখান থেকে অটোরিকশায় করে শনির আখড়ায় যাচ্ছিলেন এক আত্মীয়ের বাসায়। পরে গ্রিন রোডে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাদের যাওয়ার কথা ছিল চিকিৎসার জন্য।
মমিন আরও জানান, পথে ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় রাস্তার ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর রিকশার চাকা উঠে গেলে প্রচণ্ড ঝাঁকিতে রিকশা থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান নাজমা বেগম। তখন সামনের দিক থেকে আসা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি তার মাথার ওপর দিয়ে উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. মফিজুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী একটি গাড়ির চাপায় ওই নারী (নাজমা বেগ) নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে গাড়িটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের আবেদনে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তবে ঢাদসিকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গতকাল তাদের ময়লার গাড়িতে কেউ হতাহত হননি। এ প্রসঙ্গে ঢাদসিকের মুখপাত্র মো. আবু নাছের গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যমে করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অনুমাননির্ভর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) পরিপ্রেক্ষিতে জানাচ্ছে, ঢাদসিকের বর্জ্যবাহী কোনো গাড়িতে আজ শনিবার (৫ আগস্ট) ভোরে কেউ নিহত বা আহত হননি।’
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতরা হলেন মোটরসাইকেলের চালক কালিহাতী বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের বীর বাসিন্দা গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে জাকির হোসেন (২৮) ও একই গ্রামের আরফান আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান (২০)। গতকাল দুপুরে কালিহাতী-বল্লা সড়কের কালিহাতী পৌর এলাকার কামার্থীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালিহাতী-বল্লা আঞ্চলিক সড়কের চারান এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। আর প্রাইভেট কারটি কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চারানের দিকে যাচ্ছিল। পথে পৌর এলাকার কামার্থী এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি একটি অটো ভ্যানকে পাশা কাটানোর (ওভারটেক) চেষ্টা করে। তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক জাকির হোসেন মারা যান। আর মোটরসাইকেলটির আরোহী আসাদুজ্জামানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নুসরাত নামে ১১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে সনারকান্দা গ্রামের চৌরাস্তা-শিবগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আনজুয়ারা নামে আরেক শিশু আহত হয়েছে। নিহত নুসরাত ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শিশু নুসরাতকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের সড়ক পার হচ্ছিল শিশু আনজুয়ারা (সম্পর্কে ফুফু)। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশার সামনে দিয়ে হঠাৎ দৌড় দিলে অটোরিকশাটির সঙ্গে তারা ধাক্কা খায়। এতে গুরুতর আহত হয় সরাত ও আনজুয়ারা। পরে তাদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু নুসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন টাঙ্গাইল ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি
