লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্কুলে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষকসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পাশাপাশি এক স্কুলশিক্ষকসহ দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার স্কুল চলাকালে উপজেলার দক্ষিণ জাওরানী আবদুল লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ওই এলাকায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সব পদে আগামী ২৬ আগস্ট ভোটগ্রহণের জন্য যথানিয়মে তফসিল ঘোষণা করা হয়। তিন দিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদানের ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সোমবার ছিল প্রথম দিন। কিন্তু গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে মনোনয়নপত্র তাদের বাইরে বিক্রি করতে নিষেধ করেন স্থানীয় নুরুল হক সরকার ও তার ছেলে আবদুস সালাম শাহীনসহ সহযোগীরা। এ সময় বর্তমান সভাপতি পদে থাকা দুলাল মিয়াকে মনোনয়নপত্র দিতে গেলে নুরুল হকের ছেলে শাহীন রাম দা দিয়ে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনকে কোপাতে যায়। প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনকে বাঁচাতে স্কুলের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল এগিয়ে এলে তার মাথায় কোপ লাগে। এ সময় অন্য শিক্ষককরা এগিয়ে এলে তাদের মধ্যে শিউলী রানীসহ কয়েকজনকে মারধর করে ভাঙচুর চালানো হয়।
এদিকে বিদ্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর শেষে ফেরার পথে বিদ্যালয়ের মাঠে হামলাকারীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহতরা হলেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল, শিউলী রানী, শহিদুল, শাহীন, জসিম ও আবদুল খালেক। তাদের মধ্যে স্কুলশিক্ষক আশরাফুল ও আবদুল খালেককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, নুরুল হক ও তার ছেলে শাহীন লোকজন নিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মনোনয়নপত্র বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।
