বৃষ্টিতে স্বস্তি, আমনে স্বপ্ন বুনছেন গাইবান্ধার চাষিরা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩৮ পিএম

ভরা বর্ষায় বৃষ্টির দেখা না পেলেও শ্রাবণের শেষ সময়ের বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি আমন রোপণের ক্ষেত্রে সেচের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না তাদের। গত দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে পাট জাগ দেওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তার অবসান ঘটেছে তাদের।

মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯ টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত দুইদিনে বছরের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানিও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। চরের নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় এক লাখ ২৭ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে কৃষকেরা সেচযন্ত্র চালু করে জেলায় ৫৪ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ শেষ করেছে। এ ছাড়াও জেলায় ১৪ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এসব আবাদ থেকে ২৪ হাজার ২৫৩ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান (৫৬) বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানি ছিল না। পানির অভাবে অনেক কৃষকই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ করেছেন। এতে চাষীদের সেচ বাবদ বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে। তবে গত রবিবার থেকে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

একই উপজেলার বালাবাবুনিয়া গ্রামের সাইফুল মিয়া (৪৫) বলেন, সাধারণত আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমন রোপণ করে থাকি। কিন্তু এবার আষাঢ়ে বৃষ্টি ছিল না। শ্রাবণের শেষ দিকে এসে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এখন আমন রোপণ করতে পারবো। গত বছর এরকম সময়ে আমন ধান রোপণ করেছিলাম। ভালো ফলন পেয়েছি।

জাহিদুল ইসলাম (৫৫) নামে এক কৃষক জানান, পানির অভাবে আমন রোপণ নিয়ে যেমন শঙ্কা ছিল, তেমনি পাট জাগ দেওয়া নিয়েও ছিল দুশ্চিন্তা। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পেরে অনেক চাষির পাট জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছিল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে এখন পাট কেটে দ্রুত আমন চাষ করতে পারবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক কৃষকের বীজতলায় বীজ পরিপক্ক হয়ে যাচ্ছে। তারা বৃষ্টির অপেক্ষা না করে আগেই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ করেছেন। এখন ভারি বৃষ্টিতে জলাশয়গুলো পানিতে ভরে গেছে। কৃষকেরা সহজেই পাট জাগ দিতে পারবে। পানির অভাবে আমন রোপণ নিয়ে কিছুটা চিন্তা থাকলেও গত দুইদিনের বৃষ্টিতে সেই সংকট দূর হয়ে যাবে। আগস্ট মাসের মধ্যেই ৯৯ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ হবে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমন রোপণ করা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত