কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক (৩৫) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলায় আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিহত সঞ্জয় ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকার দুলাল প্রামাণিকের ছেলে।
এদিকে সঞ্জয়ের মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে ওঠে ভেড়ামারা শহর। তার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়া-দৌলতপুর আঞ্চলিক সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বাজারের সব দোকানপাটও বন্ধ করে দেন উত্তেজিত কর্মীরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে সঞ্জয় দলীয় সভা শেষে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় হামলার শিকার হন। ওই হামলায় বেলাল হোসেন ও শ্যামল সরদার নামে সঞ্জয়ের সঙ্গে থাকা তার আরও দুই সহকর্মী আহত হন।
আহতরা অভিযোগ করেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) অঙ্গসংগঠন যুবজোটের জেলা ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান শোভনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার পরপরই ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শোভনকে গ্রেপ্তার করে। হামলার পরদিন সঞ্জয়ের স্ত্রী বীথি রানী দে বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় শোভনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
হামলায় সঞ্জয়ের পায়ে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে গত ৪ আগস্ট উন্নত চিকিৎসার জন্য সঞ্জয়কে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় একটি মন্দিরের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর হামলা হয় বলে জানা গেছে।
গতকাল সকালে সঞ্জয়ের মৃত্যুর খবর ভেড়ামারা শহরে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। শহরের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তারা জাসদ সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় চার পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন জায়গায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, সকাল পৌনে ১১টা থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত চারটি বাড়ি এবং একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বাড়িগুলো পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না।
ভেড়ামারা থানার ওসি জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয়ের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শোভনসহ পাঁচজনকে ঘটনার দিন রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজকের (গতকাল) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
