বাংলাদেশে যারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না এমন প্রশ্ন করা হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে। গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারকে এই প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনো কথা বলে না।
বাংলাদেশের বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতিবিরোধী সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউ সবেমাত্র বাংলাদেশে তার সফর শেষ করেছেন এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছেন। তার বাংলাদেশ সফরের সময় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্প গ্রুপের মালিকের দুর্নীতিবিষয়ক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই ব্যক্তি বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগী। তিনি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পাচার করেছেন এবং বিদেশে ব্যবসায়ী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। স্ট্যাটওয়াচ ডট নেট ও ওসিসিআরপি ব্যাপক দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের বিষয়ে একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে রিচার্ড নেফিউর বৈঠকের সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তারা নিষেধাজ্ঞাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, বিশেষ করে যারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের ওপর?
জবাবে মিলার বলেন, ‘আমি একটি ভিন্ন দেশের সম্পর্কে একটি ভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম, আমরা কখনই নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপের আগে এ বিষয়ে কোনো কথা বলি না। সাধারণভাবে বলতে গেলে, নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি হাতিয়ার হতে পারে। আমাদের কাছে অন্য সরঞ্জামও রয়েছে, যেমন সম্পদ জব্দ করা এবং অংশীদার দেশগুলোকে তথ্য দেওয়া, যাতে তারা মামলা করতে পারে।’
এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের নির্মূলে ন্যায়সংগত এবং নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা বাংলাদেশকে উৎসাহিত করি।’
ব্রিফিংয়ে আরেক প্রশ্নে বলা হয়, আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করে পররাষ্ট্র দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করছে। এ বিষয়ে মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য আছে?
মিলার বলেন, ‘এর আগেও আমরা অনেকবার স্পষ্ট করেছি, আমরা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সমর্থন করি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমাদের এই নীতি অব্যাহত থাকবে।’
