রাস্তার উন্নয়নকাজে ধীরগতি, মানুষের চরম ভোগান্তি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৫:২৮ পিএম

সংস্কারের জন্য রাস্তা কেটে ফেলে রাখায় কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের নাগরমহল সড়কের বেহাল অবস্থা। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য সুয়ারেজ লাইন সংস্কারের জন্য রাস্তায় খনন করে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদ। এর পরপরই রাস্তা সংস্কারের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি সংস্কার করা হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

নাগরমহলবাসীর ব্যবহারের একমাত্র রাস্তা এটি। কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর আলম মল মার্কেট থেকে তানাকা সুপার মার্কেট পর্যন্ত সড়কটি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী নিয়মিত ব্যবহার করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাগরমহলের রাস্তাটি যান চলাচল তো দূরে থাক মানুষজনের হাঁটারও অযোগ্য। পুরো রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে আছে। কাঁদার কারণে লোকজন অনেক কষ্ট করে রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে চলাচল করছে।

ভ্যানচালক জব্বার জানান, এই রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে ভ্যানে করে থান কাপড় আনা-নেওয়া করেন তিনি। দুই বছরের বেশি সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় এখন মাল আনা-নেওয়া করতে অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে আসতে হয়। এতে অনেক কষ্ট করতে হয় তার।

টোকিও টাওয়ারের ব্যবসায়ী মো. আবিদ জানান, মার্কেটের সামনে রাস্তা নষ্ট থাকায় এখানে কোনো গাড়ি চলাচল করে না। ফলে ক্রেতাও আসে না এখন। ঈদের সময় এই রাস্তার কারণে ক্রেতা কম আসায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটা বন্ধ, কিন্তু কারো নজর নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাচ্চু জানান, এটা আমাদের নাগরমহলবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নষ্ট। রাস্তাটা আগে ভালো ছিলো, কিন্তু বছর দুই আগে সোয়ারেজের কাজ করার জন্য রাস্তাটি ভাঙা হয়। এরপরে পুরো রাস্তাটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের প্রতিনিয়ত কষ্ট করতে হয়। এখন বৃষ্টির দিন, পুরো রাস্তায় কাঁদা আর পানি। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহ খুশি বলেন, রাস্তাটির কাজ ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় না, জেলা পরিষদের আওতায়। তাই আমরা কাজ করতে পারি না। শুনেছি টেন্ডার হয়েছে, কাজ শুরু হয়ে যাবে।

রাস্তাটির কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী জাহীদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ পাইনি। তবে আমরা আগে থেকেই কাজটা ধরতেছি যেন তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। ৯৯ লাখ টাকার টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারণে রাস্তার কাজ দেরি হয়েছে।

টেন্ডারে ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, টেন্ডার তো আমাদের প্রক্রিয়া না, এটা সরকারের বিষয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান বলেন, এটা এক-দেড়মাস আগে ওয়ার্ক অডার হয়েছে। আমি সাইট ভিজিট করেছি। ঠিকাদার মালামাল ও মেশিন যোগানোর কাজ করছে। শিগগিরই পুরাতন ঢালাইটা ভাঙা হবে। তারপরে আমরা কাজ শুরু করে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত