ব্যর্থতার সিঁড়ি ভেঙে লাইজু এখন বিসিএস ক্যাডার

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৭:০৪ পিএম

'ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তারপর একাদশ শ্রেণিতে ভালো ফলাফল করেও, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন- বলছিলাম ৪১তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত লাইজুন নাহারের কথা।

মেধাবী লাইজুর চলার পথ মসৃণ ছিল না। ২০১৫ সালে তার বাবা মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী মারা যান। তখন জীবন খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে তার কাছে। একটা সময় সংসারের হাল ধরতে মেধাবী লাইজু চাকরি নেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নিলেও তার ভাবনা জুড়ে ছিল বিসিএস।

সবসময় ভাবতেন কীভাবে বিসিএস ক্যাডার হওয়া যায়। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে রাস্তায় যেটুকু সময় পেতেন তিনি বিসিএসের পড়া পড়তেন। এমনকি স্কুলের বিরতি আর ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকেও তিনি নিজের প্রস্তুতি এগিয়ে নেন।

৪০ তম বিসিএসে প্রথমবারের মত অংশ নিলেও প্রিলিমিনারিতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সে সময় কিছুটা হতাশা কাজ করলেও তিনি থেমে যান নি। আগের চেয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করে নিজেকে প্রস্তুত করেন। পরবর্তী ৪১ তম বিসিএসে বিভিন্ন ধাপ শেষ করে তিনি সফলতা অর্জন করেন।

লাইজুর প্রয়াত বাবা মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী ছিলেন বরুড়া উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা। মা মেসফুন্নাহার বরুড়া পৌর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের গনকখুলি গ্রামে।

লাইজুন নাহার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

তার প্রয়াত বাবা মোজাম্মেল হক সব সময় স্বপ্ন দেখাতেন জীবনে ভাল কিছু করার। অনেক বিসিএস ক্যাডারদের জীবনের গল্প বলতেন।

লাইজুন নাহার বলেন, আমার এ সাফল্যের সবচেয়ে বড় অবধান মায়ের। বাবাকে হারানোর পর মা ভরসা হয়ে দাঁড়ান। যখনই হতাশ হয়েছি বড় বোন সাহস জুগিয়েছেন। আমার স্বামীর কথা না বললেই নয়। সর্বদা অনুপ্রেরণা দিয়ে কঠিন সময়গুলোতে পাশে ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত