বিদেশিদের ‘জুজুর’ ভয় দেখাতে জঙ্গি নাটক : ফখরুল

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩, ০৫:৫১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কী রকম কূটকৌশলী করে। কী রকম ভয়াবহ এরা। শনিবার পত্রিকায় দেখেছেন কুলাউড়ায় হঠাৎ শহর সঙ্গে লাগা একটি বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান হয়েছে। সেখান থেকে ছয়জন মহিলা, চারজন শিশু গ্রেপ্তার করেছে। সঙ্গে আবার কী? ডেটোনেটর, তিন কেজি বিস্ফোরক। কোত্থেকে আসল এরা? কারা আনল? কীভাবে আনল? যখনই আমাদের আন্দোলন উঠতে থাকে, প্রতিবার তার আগে জঙ্গি নাটক অনুষ্ঠিত হয়। মানুষে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে এই নাটক করছে। পশ্চিমা বিশ্বকে সেই জুজুর ভয় দেখাতে যে এই দেখো, বাংলাদেশে যদি আমরা না থাকি, জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। কোকোর জীবনী নিয়ে একটি স্মরণিকা এবং তার নামে ক্রীড়াঙ্গনে পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে বলেন, আপনার মুখে এত হাসি দেখি কেন সব সময়। হাসি এ জন্য যে আমি দেখতে পারছি, এই ভয়াবহ দানব জনগণের উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে সরে যাচ্ছে। আমি শুধু আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকেন, পরিবর্তন আসছে, পরিবর্তন হবে। সত্যের জয় হবে, সুন্দরের জয় হবে, গণতন্ত্রের জয় হবে ইনশাহ আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হাই অ্যালার্ট করেছে। প্রতিদিন ১২-১৪ জন করে মারা যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের কথা শুনে কি একবারও মনে হয় বা তাদের কোনো কনসার্ন আছে এতে। যেভাবে আমরা জেলখানায় সারি দিয়ে গিয়ে শুয়ে থাকি, ওভাবে সারি দিয়ে মুগদা হাসপাতালে বাচ্চারা শুয়ে আছে। এত কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্ট, বাচ্চারা সঠিক চিকিৎসা পাবে না কেন?’ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ‘দূর্বিষহ’ জীবনচিত্র তুলে ধরেন ফখরুল।

ক্রীড়াঙ্গনে সরকারের ব্যাপক দলীয়করণের কারণে যোগ্য ও সত্যিকারের ক্রীড়াবিদ বেরিয়ে আসছে না বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে ইন্টার স্কুল প্রতিযোগিতা, অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, ভলিবল-হকি-ক্রিকেট হতো। সেই স্পোর্টস এখন আর হয় না। আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) থেকে নির্দেশ আসার পরেও কেমন করে কর্মকর্তারা সেই দায়িত্বে থাকেন।

গত ২৮ জুলাই ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের সারা দেশ থেকে আসার মানুষের সমাগত ও সরকারের দমন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে দলটির মহাসচিব বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে আপনারা (আওয়ামী লীগ) শতকরা ১০টি আসনও পাবেন না।

এদিকে গতকাল রাজধানীর শান্তিনগরে হোয়াইট হাউজ হোটেলে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সরকারের পদত্যাগ ও রাষ্ট্রের সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনীতিতে দুর্যোগময় সময় বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ অতীতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাউয়ূম দলের রাজনৈতিক পর্যালোচনা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি সংবিধান, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার, নির্বাচনী ব্যবস্থা, আইন, বিচার ও প্রশাসন, মৌলিক অধিকার, অর্থনীতিসহ সাতটি বিষয়ে আইন সংস্কারের দাবি তোলেন। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রের সংস্কার প্রয়োজন। এ জন্য ৩১ দফা দিয়েছেন।’

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

এছাড়া গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নারী নেত্রীদের নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে মহিলা দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ওরা (আওয়ামী লীগ সরকার)  ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া প্রত্যেক জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে তারা ঘুরে এসেছে আশানুরূপ কিছু পেয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তাই এখন বিএনপির মহিলা নেত্রীদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত