২০ বছর পর মণিপুরের হলে হিন্দি সিনেমা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩, ১১:৩৩ পিএম

জাতিগত সহিংসতার আগুন নিভলেও এখনো থমথমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং পাহাড়ের কুকিদের মধ্যে ঘটা সংঘাতে এ রাজ্যে ভারতীয় অখণ্ডতা নিয়ে নতুন করে জাগছে শঙ্কা। এ পরিস্থিতিতে মণিপুর অখণ্ড ভারতের অংশ জানান দিতে বেছে নেওয়া হয় স্বাধীনতা দিবসকে। এদিন দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শিত হলো হিন্দি সিনেমা।

গতকাল মঙ্গলবার মণিপুরের জনপরিসরে হিন্দি সিনেমার এ ফিরে আসার খবর জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ভারতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে এবং এই দিনেই জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত মণিপুরে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো হিন্দি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এদিন সন্ধ্যায় মণিপুরের চুরাচাঁদপুরের রেংকাই (লামকা) এলাকায় একটি হিন্দি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনা করে উপজাতীয় সংগঠন হামার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এইচএসএ)। তবে সিনেমাটির নাম প্রকাশ করেনি তারা।

গত সোমবার মধ্যরাতের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে এইচএসএ জানায়, তারা মঙ্গলবার দেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশ্যে হিন্দি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ প্রতি আমাদের দৃঢ়তা এবং অটল মনোভাব প্রদর্শনের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব গোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে আদিবাসীদের পরাধীন করে রেখেছে।’

রাজ্যে সর্বশেষ হিন্দি চলচ্চিত্র হিসেবে ১৯৯৮ সালে প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হয়েছিল ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’। এনডিটিভি জানায়, মণিপুরের বিদ্রোহী সংগঠন রেভল্যুশনারি পিপলস ফ্রন্ট (আরপিএফ) ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যটিতে হিন্দি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কর্মকর্তারা বলেছেন, সেই বছর ১২ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা জারি করার এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্রোহীরা রাজ্যের আউটলেটগুলো থেকে সংগ্রহ করা ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার হিন্দি ভিডিও, অডিও ক্যাসেট এবং কমপ্যাক্ট ডিস্ক পুড়িয়ে দেয়।

যদিও আরপিএফ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে হিন্দি চলচ্চিত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো কারণ সামনে আনেনি, তবে কেবল অপারেটরদের দাবি, মণিপুর রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতিতে বলিউড চলচ্চিত্রের নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত